আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের সেন্ট্রাল কারু অঞ্চলের একটি মহাসড়কে অত্যন্ত ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও চারজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দক্ষিণ আফ্রিকার সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় সংস্থা এবং স্থানীয় ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রোড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন (আরটিএমসি) এবং প্রভিন্সিয়াল মবিলিটি ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কেপটাউন থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে প্রিন্স আলবার্ট ও লিউ-গামকা শহরের মধ্যবর্তী এন-১ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশ জানিয়েছে, দুটি টয়োটা কোয়ান্টাম মিনিবাস ট্যাক্সি একে অপরের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে একটি সুজুকি স্টেশন ওয়াগন বা এসইউভি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে গাড়িগুলোকে সজোরে ধাক্কা দেয়। আকস্মিক এই ত্রিমুখী সংঘর্ষের ফলে যানবাহনগুলোর অংশবিশেষ এবং নানা ভাঙা অংশ পুরো মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর পরই জরুরি সেবাকর্মী ও ট্রাফিক পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলেই ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়ায়। আহত বাকি চারজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে মর্মান্তিক এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ওয়েস্টার্ন কেপের প্রাদেশিক মন্ত্রী আইজ্যাক সিলেকুসহ স্থানীয় সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী জাহাজ উল্টে নিখোঁজ ১৪০

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণে এন-১ মহাসড়কের ওই অংশে উভয় দিকে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ চালক ও যাত্রীদের ওই এলাকা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিকল্প রুট হিসেবে প্রিন্স অ্যালবার্ট রোড স্টেশন হয়ে আর-৪০৭ সড়ক ধরে এন-১২ এর দিকে এবং এরপর এন-১২ ধরে বিউফোর্ট ওয়েস্টের দিকে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। মহাসড়কটি পুনরায় চালু হতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনার মূল কারণ এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে লিউ-গামকা থানায় একটি 'কালপাবল হোমিসাইড' বা অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এর নেপথ্যের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আরটিএমসি ও দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ সার্ভিস যৌথভাবে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় দূরপাল্লার যাতায়াতে মিনিবাস ট্যাক্সিগুলো অন্যতম প্রধান গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হলেও দেশটিতে প্রায়ই এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসেই পৃথক দুটি মিনিবাস দুর্ঘটনায় ১৪ জন শিশুসহ অন্তত ২৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। আরটিএমসির বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনা একটি জাতীয় উদ্বেগের বিষয়, যদিও পূর্বের বছরের তুলনায় সামগ্রিক দুর্ঘটনা কিছুটা হ্রাসের প্রবণতা দেখা গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়