নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫২, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, ভর্তি ১,৫৯৩

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, ভর্তি ১,৫৯৩

ফাইল ছবি

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন রোগী। এর মাধ্যমে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৫ হাজার ১৬৫ জনে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তির তথ্যবিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৯৩ জন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭২ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু, একদিনে রেকর্ড ১,৭৩৩ ভর্তি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ৫৫ হাজার ১৬৫ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫০ হাজার ৯৪১ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন ১ হাজার ৫৬৬ জন ডেঙ্গুরোগী। চলতি বছরে মারা যাওয়া ১৬৪ জনের মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। 

এর আগে বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলো ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৪১৩ জন। এছাড়া ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়। এরও আগে ২০২৩ সালে ইতিহাসের ভয়াবহতম ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু এবং ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বর্ষা পরবর্তী সময়ে এবং আগামী অক্টোবর মাসে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশারসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এডিস মশা এখন শুধু দিনের বেলায়ই নয়, বরং বিভিন্ন সময়ে তার কামড়ানোর আচরণ পরিবর্তন করছে। তাই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শুধু সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ঘরবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বর অনুভূত হলেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়