নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামে আরও ৬ মৃত্যু, প্রাণহানি ১,০৩৬

হামে আরও ৬ মৃত্যু, প্রাণহানি ১,০৩৬

ফাইল ছবি

বাংলাদেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গের প্রাদুর্ভাব চরম আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৯৩৬ জন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, দেশের ইতিহাসে হামে একক বছরে এত বিপুল পরিমাণ মৃত্যুর ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিন ও দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ৪ জন, এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১ জন করে মোট ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হামে নতুন করে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩১৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধিত তথ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩৯ জন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৭৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগে ৪৮৪ জন, চট্টগ্রামে ২৮১ জন, সিলেটে ১৯৭ জন, খুলনায় ৯৮ জন, ময়মনসিংহে ৮২ জন, রাজশাহীতে ৩০ জন, বরিশালে ১২৫ জন এবং রংপুরে ১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

আরও পড়ুন: হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১০৩০

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে সন্দেহজনক ও উপসর্গযুক্ত হাম রোগীর মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ৭৩ হাজার ৯৫৯ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত করা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ২০১ জনে। প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে মোট ১ হাজার ৫৩ হাজার ২৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃতদের সিংহভাগই শিশু, বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

প্রায় এক দশক ধরে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ করে ২০২৬ সালের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য নীতিনির্ধারণী দুর্বলতা ও টিকাদান কর্মসূচিতে ছন্দপতনকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও আন্তর্জাতিক গবেষকেরা। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, বিগত বছরগুলোতে নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। এর ফলে পর্যাপ্ত টিকার জোগান না থাকায় এবং সময়মতো জাতীয় ক্যাম্পেইন না হওয়ায় প্রায় কোটিরও বেশি শিশু টিকার সুরক্ষা বলয়ের বাইরে থেকে যায়।

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে প্রাদুর্ভাব তীব্র আকার ধারণ করার পর সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হটস্পটে জরুরি ভিত্তিতে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হলেও জনরোষ ও জনস্বাস্থ্য সংকট পুরোপুরি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। 

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংক্রমণ পুরোপুরি রোধ করতে হলে দ্রুত টিকাদানের ব্যথতা শতভাগ নিশ্চিত করা, প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে লজিস্টিক ও শয্যা সংকট দ্রুত সমাধান করা জরুরি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়