আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৫০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি ঘাঁটিতে হুতিদের হামলায় বন্ধ তেল পাইপলাইন

সৌদি ঘাঁটিতে হুতিদের হামলায় বন্ধ তেল পাইপলাইন

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান। 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে এই ঘোষণা আসলেও হামলাটি ঠিক কোন সময়ে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময় প্রকাশ করা হয়নি।

হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটি। হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ওই ঘাঁটিতে থাকা অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে এই স্থাপনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল বলে দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে এই সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘোষণা এলো।

সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে এই হামলার পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি খাতে বড় ধরণের আঘাত এসেছে। লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এর মধ্যবর্তী কৌশলগত পেরিম দ্বীপের (মায়ুন দ্বীপ) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা। এর পরপরই সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চল দিয়ে অতিক্রমকারী কৌশলগত ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার সকালে সংঘটিত এই হামলার ফলে সৌদির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে তেল পরিবহন সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে।

সৌদি পররাষ্ট্র ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের পাম্প স্টেশনগুলোতে ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

প্রাথমিক তদন্তে সৌদির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এ ঘটনার পর ইরাক সরকার তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছে। হরমুজ প্রণালিতে ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানির এই বিকল্প পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে মারাত্মক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। 

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, এই সংকটের কারণে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে।

এই সার্বিক পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। 

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তার অনুরোধ জানালেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা আপাতত নাকচ করে দিয়েছেন। 

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, হুতিরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আশ্বস্ত করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে হস্তক্ষেপ না করে। 

অন্যদিকে, লোহিত সাগর ও আরব উপদ্বীপের দুই পাশেই হুতিদের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে একের পর এক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ডেকে এনেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়