আদাবরে ব্যাগ থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় অজ্ঞাত
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবরের ১০ নম্বর বালুর মাঠসংলগ্ন হাক্কার মোড় এলাকার একটি খাল থেকে এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খালপাড়ের ময়লার মধ্যে পড়ে থাকা একটি কালো ব্যাগ থেকে মরদেহের মাথা, দুই হাত ও শরীরের অংশ উদ্ধার করা হয়। তবে নিহত নারীর দুই পা এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আদাবর ১০ নম্বর বালুর মাঠের কাছে খালপাড়ে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা একটি কালো ব্যাগ স্থানীয়দের নজরে আসে। ব্যাগটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয়রা সেটি সরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ব্যাগ থেকে প্রথমে একটি হাত এবং পরে মাথা বেরিয়ে পড়ে। বিষয়টি দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে আদাবর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগ ও আশপাশের খালপাড়ে তল্লাশি শুরু করেন। পরে পানিতে ও ময়লার স্তূপে খোঁজ চালিয়ে মরদেহের আরও অংশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক হিসাবে এ পর্যন্ত মরদেহের চারটি অংশ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল দেহ, মাথা এবং দুই হাত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এখন পর্যন্ত চারটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই পা এখনো পাওয়া যায়নি। সেগুলোর সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহের অংশগুলো একটি কালো ব্যাগে রাখা ছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাগটি খালপাড়ের ময়লার মধ্যে পড়ে ছিল। পরে সেটি নাড়াচাড়া করার পর ভেতরে মরদেহ থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশের তথ্যে আরও জানা গেছে, নিহত নারীকে মাঝবয়সী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরনে মেরুন রঙের পোশাক ও জলপাই রঙের পায়জামা ছিল বলে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে থাকবে না কিশোর গ্যাং, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) জানানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ ফরেনসিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, খাল থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। অপরাধের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ বা কোনো সন্দেহভাজনের বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, হত্যার পর মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করে কোনোভাবে ওই এলাকায় ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ের ধারণা; হত্যার স্থান, সময়, কীভাবে মরদেহ খণ্ডিত করা হয়েছে এবং কোথায় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেনি। মরদেহের বাকি অংশ, বিশেষ করে দুই পা উদ্ধার এবং নিহতের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসতে পারে।
ঘটনাস্থলে আদাবর থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা, উদ্ধার হওয়া মরদেহের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, একই ঘটনায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উদ্ধারস্থলকে কখনো আদাবর ১০ নম্বর বালুর মাঠসংলগ্ন খাল, কখনো হাক্কার মোড় বা হাক্কারপাড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সবগুলো প্রতিবেদনের মূল তথ্য একই আদাবর ১০ নম্বর এলাকার খালপাড় থেকে একটি ব্যাগে থাকা এক অজ্ঞাত নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং তাঁর দুই পা এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








