কর্ণফুলীতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল ৪ জনের
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের আরও অন্তত ১১ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী-কলেজ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান ইউটার্ন নেওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটির সঙ্গে সেটির সজোরে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতরভাবে আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মাইক্রোবাসের ভেতরে আটকে থাকা ও আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা গেলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়ায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলে নিহতের সংখ্যা নিয়ে সামান্য পার্থক্য থাকলেও চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি কর্ণফুলী থানার পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে নিহতদের মধ্যে মিমতা, মোর্শেদ, তাদের মামা ফেরদৌস আলম ফিরোজ এবং মাইক্রোবাসচালক মুন্নার নাম এসেছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে নিহত মিমতা ও মোর্শেদকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইউনিয়নের উত্তর মাইজপাড়া এলাকার মনজুর আলমের সন্তান এবং ফেরদৌস আলম ফিরোজকে তাদের মামা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফেরদৌস আলম ফিরোজ ঈদগাঁওয়ের আরাফাত শপিং কমপ্লেক্সের নুরজাহান মেডিকোর স্বত্বাধিকারী ছিলেন এবং তার বাড়ি পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী এলাকায় বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২
তবে দুর্ঘটনার পরপর প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে নিহতদের নাম ও বয়সে ভিন্নতা দেখা গেছে। কোথাও নিহতদের মধ্যে মো. ফেরদৌস আলম (৫), মিপতা (১৭) ও মাইক্রোবাসচালক মুন্না (৪০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অপর একজনের পরিচয় তখনও নিশ্চিত হয়নি। পরবর্তী আপডেটে নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়। ফলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে থাকা নাম ও বয়সের সঙ্গে পরবর্তী পরিচয় শনাক্তকরণের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক্রোবাসটি কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে কাভার্ডভ্যানটি শাহ আমানত সেতু পার হয়ে ইউটার্ন নেওয়ার সময় মহাসড়কের বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে কয়েকটি প্রতিবেদনে কাভার্ডভ্যানটির গতি বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি; পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। সেখানে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গুরুতর আহতদের চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে এর চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্ঘটনাটি এমন সময় ঘটে, যখন বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা রাতের যাত্রায় কক্সবাজারের দিকে ফিরছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তা নিতে হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হলেও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দুর্ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট যানবাহন পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং দুর্ঘটনার সময় কাভার্ডভ্যানের চলাচল ও ইউটার্ন নেওয়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। চালক ও সহকারীর অবস্থান শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








