নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:১৫, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোহাম্মদপুরে থাকবে না কিশোর গ্যাং, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি

মোহাম্মদপুরে থাকবে না কিশোর গ্যাং, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইমুক্ত করতে ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযান জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। 

তিনি বলেছেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব রাখা হবে না এবং কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দও থাকবে না। একই সঙ্গে মাদকের স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় নিয়মিত অভিযান, অটোরিকশা ও রিকশার গ্যারেজে নজরদারি, বিট পুলিশিং শক্তিশালী করা এবং ছিনতাইকারীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা বা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। 

সভায় স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি, পুলিশের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ওসমান গনি, র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নাগরিকদের বক্তব্যে মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রধান উদ্বেগ হিসেবে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিষয়টি উঠে আসে। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে অটোরিকশার গ্যারেজে নজরদারি বাড়ানো, বেড়িবাঁধ এলাকায় মোটরসাইকেল টহল জোরদার এবং ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা। 

নাগরিকদের এসব উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনার জানান, পুলিশও ওই তিন অপরাধকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, এই মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ মোহাম্মদপুরে থাকবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে একদিনেই সব কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হবে এমন বাস্তবতাও তিনি স্পষ্ট করেছেন। 

নাগরিকদের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ডিএমপির পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এ কাজে একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

ডিএমপি কমিশনার জানান, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানা এবং মাদকের স্পট সম্পর্কে পুলিশের কাছে তালিকা রয়েছে। সেই তালিকা ধরে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তার নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু পরিচিত মাদক স্পট নয়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যেসব জায়গায় অবস্থান করে সেসব স্থানেও নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। 

রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, গ্যারেজগুলোতে প্রতিদিন ও প্রতি সপ্তাহে অভিযান চালাতে হবে। বিশেষ করে রাতে অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতরে কাউকে পাওয়া গেলে তাকে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণেও নিয়মিত অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান প্রতিদিন এবং প্রতি সপ্তাহেই চলবে। মোহাম্মদপুরে মাদকের যেসব স্পট পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে, সেগুলোতে অভিযান আরও জোরদার করার জন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স অবস্থান রয়েছে। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে দীর্ঘদিনের এই সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় বলেও তিনি স্বীকার করেন। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় সহযোগিতা ও এলাকাভিত্তিক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আরও পড়ুন: শিশু বলাৎকারের অভিযোগে মোহাম্মদপুরে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেফতার

মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নতির দিকে রয়েছে বলেও সভায় দাবি করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, গত তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তার আগের তিন মাসের সঙ্গে তুলনা করলে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই তিন ক্ষেত্রেই উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। সভায় অংশ নেওয়া বেশির ভাগ নাগরিকও জানিয়েছেন, আগের তুলনায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং মাদক কেনাবেচা কিছুটা কমেছে। পুলিশের পরিসংখ্যানেও ছিনতাই অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে কোনো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয় বলে সতর্ক করেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে মোহাম্মদপুরের পুলিশি সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তিনি জানান, এলাকার জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের জনবল কম। সরকার চাইলেই তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে পারে না; তবে জনবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধবিরোধী অভিযানে অতিরিক্ত ফোর্স প্রয়োজন হলে তা সরবরাহ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশি তৎপরতা বাড়াতে বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানায় আটটি বিট রয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব বিটের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। 

তার মতে, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে শুধু কেন্দ্রীয় বা থানা পর্যায়ের অভিযান যথেষ্ট নয়; স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছিনতাইকারীর হাতে ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি বা অন্য কোনো দেশীয় অস্ত্র থাকলে এবং তা ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা বা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হলে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগতভাবে অস্ত্র প্রয়োগের প্রয়োজন হলে পুলিশ তা করবে বলেও তিনি জানান। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা আইনানুগ সীমার মধ্যেই নেওয়া হবে বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। সেখানে প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গা রয়েছে বলে তিনি জানান। ওই জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। মামলার রায় পুলিশের পক্ষে গেলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ওই এলাকার পুলিশি উপস্থিতি বাড়িয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মোহাম্মদপুরকে অপরাধমুক্ত করার ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার স্থানীয় বাসিন্দাদের ওয়ার্ডভিত্তিক মাদকবিরোধী ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কমিটির মাধ্যমে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তার বক্তব্যে, জনসম্পৃক্ততা ছাড়া শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ও অপরাধগত সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন। স্থানীয় বাসিন্দারা যদি পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন এবং এলাকাভিত্তিক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, তাহলে অপরাধীদের জন্য ওই এলাকায় টিকে থাকা কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।

সভায় নাগরিকদের দায়িত্বের বিষয়টিও সামনে আসে। এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, মাদক গ্রহণ করছে কি না এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি প্রয়োজন। অর্থাৎ কিশোর গ্যাং মোকাবিলাকে শুধু পুলিশের অভিযান হিসেবে না দেখে পরিবার, স্থানীয় সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগ হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বানও জানান এসআরবির মহাপরিচালক। তিনি জানান, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় কিছু অস্ত্র হারিয়ে গেছে এবং সেসব অস্ত্র উদ্ধারে সরকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দিয়ে তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চান। 

একই সঙ্গে র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংস্থাটির কিছু ভালো কাজের পাশাপাশি কিছু খারাপ কাজও হয়েছে; পরবর্তী সময়ে র‍্যাবকে নতুন কাঠামো ও নতুন আইনের আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উদ্যোগের মধ্যে আরও রয়েছে বেড়িবাঁধ এলাকায় মোটরসাইকেল টহল বাড়ানো এবং ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে কঠোরতা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির মধ্যে এসব বিষয় উঠে এসেছে। অপরাধীদের গতিবিধি শনাক্ত, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুরের পাশাপাশি ঢাকার অন্যান্য বিভাগেও পর্যায়ক্রমে নাগরিকদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় সভা করা হবে। 

তার মতে, নাগরিকদের প্রত্যাশা পরিষ্কার এলাকায় যেন ছিনতাই না থাকে, কিশোর গ্যাং না থাকে এবং মাদকের বিস্তার বন্ধ হয়। পুলিশও এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জন তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয়; ধারাবাহিক অভিযান, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা, কার্যকর বিট পুলিশিং এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে ধাপে ধাপে সেখানে পৌঁছাতে হবে।

মোহাম্মদপুরের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে একদিকে গত ছয় মাসের তুলনামূলক অপরাধ পরিসংখ্যানে উন্নতির দাবি উঠে এসেছে, অন্যদিকে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণ মূল্যায়ন করা যায় না। ফলে পুলিশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো পরিসংখ্যানগত উন্নতিকে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তায় রূপ দেওয়া এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তার আস্থা আরও শক্তিশালী করা। সেই লক্ষ্যেই কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইকে একসঙ্গে মোকাবিলায় নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক তৎপরতা, বিট পুলিশিং, কমিউনিটি অংশগ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়