নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:১২, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১০৩০

হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১০৩০

ফাইল ছবি

দেশে চলমান হাম পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। নতুন এই আট মৃত্যুর ফলে চলতি বছর নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ দুই হিসাব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৩০ জনের। 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিন ও কন্ট্রোলরুমের তথ্য থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

সংক্রমণ ও রোগী ভর্তির চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ ৫২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ২৭৮ জন, সিলেটে ১৫০ জন, বরিশালে ১৩১ জন, খুলনায় ৮৮ জন, ময়মনসিংহে ৫৭ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন এবং রংপুরে ২৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৭৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ বা সন্দেহজনক লক্ষণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন নতুন আরও ৫৫ জন। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে আরও জানানো হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে সন্দেহজনক হামের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২ হাজার ৭২০ জনে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্ট ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে ২০ হাজার ১২৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময় পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৫২ হাজার ১১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন; যার মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ জন রোগী।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হামের টিকা প্রদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের মাঝে হামের উপসর্গ দেখা মাত্রই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়