মক্কা-জেদ্দা-তায়েফে সৌদির জরুরি সতর্কতা
ফাইল ছবি
সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক শহর পবিত্র মক্কা নগরী, বন্দরনগরী জেদ্দা এবং পার্বত্য শহর তায়েফে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় জারি করা জরুরি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। দেশটির সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে যে নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর থেকে বিপদের আশঙ্কা কেটে যাওয়ায় এই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম ফর ইমার্জেন্সিজ-এর মাধ্যমে নাগরিকদের মুঠোফোনে সরাসরি এই গণবিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষপ নেওয়া হয়। গত কয়েক দিন ধরে হুতিরা সৌদির সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন শহর ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সৌদি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, হুতি মিলিশিয়ার সাম্প্রতিক এসব হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ধারাবাহিক আক্রমণ ও উত্তেজনার আবহেই পবিত্র মক্কাসহ পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান শহরগুলোতে আকস্মিক সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীও ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ঘাঁটি ও সামরিক অবস্থানে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: সৌদি ঘাঁটিতে হুতিদের হামলায় বন্ধ তেল পাইপলাইন
জরুরি সতর্কতা জারির পর পরই সৌদি সিভিল ডিফেন্স বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানায়। সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে নাগরিকদের দ্রুত নিকটস্থ শক্ত ও নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভবনের ভেতরের জানালাবিহীন অভ্যন্তরীণ কক্ষে অবস্থান করতে এবং বিপদ সম্পূর্ণ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত বাইরে বের না হতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি খোলা জায়গা, জানালা, বারান্দা ও ছাদ থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাইরে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দ্রুত নিকটস্থ কোনো মজবুত স্থাপনা বা আড়ালের পেছনে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া গাড়িচালকদের সতর্কবার্তা পাওয়ার সাথে সাথে সেতু ও উচুঁ ভবন থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে যানবাহন থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অপ্রয়োজনীয় জটলা বা জনসমাগম এড়িয়ে চলতে এবং কেবল সরকারি ও অফিসিয়াল মাধ্যমের নির্দেশাবলী অনুসরণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলো নিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নাগরিকদের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে কল করার এবং আতঙ্কিত হয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে হুতিদের এই ক্রমবর্ধমান আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)। ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে চলমান সংঘাত নিরসনে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন এই পরিস্থিতির দিকে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








