নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৫০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই’

‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই’

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা বা আইনি পূর্বশর্ত নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। 

তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, তেমনি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে আগামীতে নির্বাচনে ইচ্ছুক প্রার্থীদের কোনো ধরনের বিভ্রান্তিতে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি‌র এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পরিধি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের কোনোটিতেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দিলে তা মানবাধিকারের পরিপন্থী হতে পারে এবং সার্বজনীন ভোটাধিকারের ক্ষেত্রে তা এক ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে খুব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রজাতন্ত্রের বা কোনো পরিষদের কিংবা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন, তবে তিনি ওই নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলে ৭টি পৃথক বিধিবদ্ধ আদেশ জারি করছে সরকার

পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১-এর বিধি ১১.১৭(ক) এবং ১১.১৭(খ)-এর ব্যাখ্যা টেনে তিনি জানান, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক পদ, চাকরি বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।

নীতিমালার ১১.১৭(খ) ধারা অনুযায়ী, আর্থিক লাভজনক পদ বলতে সরকার প্রদত্ত যেকোনো ধরনের বেতন, ভাতা, সম্মানী এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আইন পেশাসহ বিভিন্ন কর্মের বিনিময়ে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধাদিকে বোঝানো হয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন দেশের বিদ্যমান স্থানীয় সরকার আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ও অন্যান্য বিধিবিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আইনগত ব্যাখ্যা বা মতামতের প্রয়োজন হলে ইসি তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে, যা পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে পরিষ্কার করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় শিক্ষকদের নির্বাচন অংশগ্রহণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা জামায়াত যদি সরকারের ওপর কোনো দায় চাপাতে চায়, তবে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, জাতীয় সংসদে যখন সংশ্লিষ্ট আইন পাস হয়েছিল, তখন তারাও সংসদ প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করে সুইজারল্যান্ড। 

দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি জানান, বাংলাদেশের স্থানীয় উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের অংশীদারত্বমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে তারা একযোগে কাজ করে যাবেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়