আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩১, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি জাহাজের সংঘর্ষ

আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি জাহাজের সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর অপেশাদার, আগ্রাসী ও বিপজ্জনক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাকে তলব করে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, উত্তর আরব সাগরে নিয়মিত নজরদারি ও রুটিন টহল মিশনে নিয়োজিত ছিল ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজ। ঠিক সেই সময় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি হুনাইন-ক্লাস করভেট টাইপ যুদ্ধজাহাজ বা নৌযান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং বিপজ্জনকভাবে মহড়া চালিয়ে ভারতীয় জাহাজের খুব কাছাকাছি চলে আসে। পাকিস্তানি জাহাজটির এই অস্বাভাবিক উচ্চগতি এবং অপেশাদার ও অনিরাপদ গতিপথ পরিবর্তনের ফলেই দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সৌভাগ্যবশত, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটা এই সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সংঘর্ষের পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে উভয় দেশের জাহাজগুলোকে ওই এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এই আকস্মিক ঘটনায় দুই দেশের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক নৌ-বিধির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী জাহাজ উল্টে নিখোঁজ ১৪০

ভারতের দাবি, পাকিস্তানি নৌবাহিনীর এই আচরণ দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষ করে, ১৯৯১ সালের এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত সামরিক মহড়া, কৌশলগত তৎপরতা ও সেনা চলাচলের বিষয়ে আগাম নোটিশ সংক্রান্ত চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। উক্ত চুক্তি ও এর ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, উভয় দেশের জলযানকেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলের সময় একে অন্যের চেয়ে অন্তত ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে হবে এবং যেকোনো সামরিক গতিবিধির পূর্বঘোষণা দিতে হবে। অথচ পাকিস্তান তা মানেনি।

তলবকালে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাকিস্তানি কূটনীতিকের মাধ্যমে ইসলামাবাদকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের অপরিপক্ব ও বেপরোয়া আচরণ অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে, সেজন্য পাকিস্তানের সব সামরিক ইউনিটকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং দুই দেশের মধ্যকার প্রাসঙ্গিক চুক্তির বিধান ও প্রটোকলগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে। 

একইসঙ্গে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও ভারতের এই আপত্তির বার্তা ও তীব্র প্রতিবাদ জানানোর জন্য ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের মধ্যে এ ধরনের মুখোমুখি বা সংঘর্ষের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১১ সালের জুনেও অনুরূপ একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বাবর এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ গোদাবরী একই ধরনের সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়েছিল। আরব সাগরের কৌশলগত জলসীমায় সামরিক টহলের সময় ঘটা এই নতুন সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়