আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৯, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘তারেক রহমানকে দুটি আলাদা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত’

‘তারেক রহমানকে দুটি আলাদা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত’

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ও সদ্য সমাপ্ত ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ ঘিরে সৃষ্ট কূটনৈতিক ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

ভারতের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে মোট দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল যার একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি বঙ্গোপসাগরীয় বহু-খাতভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমসটেক) বর্তমান চেয়ার বা সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। 

তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারপারসন বা সভাপতি হিসেবে তাকে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ বা বহিঃপ্রকাশ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ফলে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান দুটি আলাদা আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনার সৃষ্টি হয়। সে সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী কীভাবে ভারতে যাবেন এবং বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? 

তিনি দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, বরং তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল শুধুমাত্র বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার সুবাদে। 

প্রতিমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্দিষ্ট আমন্ত্রণ না থাকলে এই সফরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই বিবৃতির পরই মূলত ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো।

আরও পড়ুন: মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ, যা বলল ভারত

কূটনৈতিক সূত্র ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসের কোনো সদস্য বা অংশীদার রাষ্ট্র নয়। তবে যেহেতু বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছে, তাই সেই সুবাদে জোটটির প্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উক্ত সম্মেলনে সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর প্রধানদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও অতিথিরাও অংশ নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণটি সম্পূর্ণ আলাদা এবং সেটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারত। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ বার্তা নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ঢাকায় এসেছিলেন। সে সময় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে (স্ত্রী ও সন্তানসহ) ভারত সফরের আমন্ত্রণসংবলিত আনুষ্ঠানিক চিঠি পৌঁছে দেন। 

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশ সরকার বরাবরই তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রথম ভারত সফরটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণটি যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেক প্রধানের দায়িত্বে পাওয়ার সূত্রে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও শুরুতে সেই অবস্থানটিই জানানো হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস সম্মেলন ও দ্বিপক্ষীয় সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলে যে ভুল বোঝাবুঝি বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, রণধীর জয়সওয়ালের এই বক্তব্যের মাধ্যমে তার অনেকটাই নিরসন হলো। ভারতের নতুন এই ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ব্রিকস সম্মেলনের বিষয়টি আঞ্চলিক জোটের কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে আলাদা একটি পূর্ণাঙ্গ সফরের আমন্ত্রণপত্র আগেই প্রস্তুত রয়েছে। এখন দেখার বিষয় ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার এই কূটনৈতিক বোঝাপড়ার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবে নাগাদ তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরটি চূড়ান্ত করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়