‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে নজরদারিতে মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’
ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রতিটি শিশুর কাছে মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল সরকারি বা বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, পর্যায়ক্রমে দেশের সব মাদরাসাকেও নিয়মিত মনিটরিং ও সরকারের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে। শিক্ষা খাতের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস আয়োজিত অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ১৮০ দিন শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে গত ছয় মাসে নারী ও শিশু অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষা খাতে অর্জিত অগ্রগতির মূল্যায়ন করতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতের সংস্কার ও শিশুদের সার্বিক কল্যাণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষা খাতের সব কার্যক্রম যাতে সরকারের নজরদারির সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আসে, সে লক্ষ্যেই বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হাওর ও দুর্গম অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আনতে এসব এলাকার বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য আলাদা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনার বিষয়ে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে স্যানিটারি সামগ্রী সরবরাহ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি স্বনামধন্য বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো।
আরও পড়ুন: প্রাইভেট টিউশনে অতিরিক্ত নির্ভরতা মহামারি আকার ধারণ করেছে
নারী অধিকার ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ অত্যন্ত জোরালো মন্তব্য করে তিনি বলেন, সমাজে নারীর পরিচয় কেবল কন্যা, মা বা স্ত্রীর প্রচলিত গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বরং সমাজে নারীর বহুমাত্রিক পরিচয়, অবদান ও সক্ষমতার পূর্ণ স্বীকৃতি দিতে হবে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শারীরিক শক্তির চেয়ে রাজনৈতিক যোগ্যতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সমাজে পূর্ণ সমতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত পিংক বাস কিংবা সংসদে নারীর সংরক্ষিত আসনের মতো ব্যবস্থাগুলোকে সাময়িক বা অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা উচিত। মূলত নির্বাচনী প্রতিযোগিতার নানা কাঠামোগত বাস্তবতার কারণেই রাজনীতিতে নারীদের কাঙ্ক্ষিত অংশগ্রহণ এখনও কিছুটা কম রয়েছে, যা দূর করতে ইতিবাচক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা জরুরি।
লেখক ও উন্নয়নকর্মী নিশাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আন্না মিনজ, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ। বক্তারা নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের বিগত ছয় মাসের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন এবং কার্যকর পরিবর্তনের জন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








