স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৯, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্চে নেপালের বিপক্ষে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশ

মার্চে নেপালের বিপক্ষে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও নেপাল বহুবার মুখোমুখি না হলেও এবার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে নেপাল সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আগামী বছরের মার্চে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে কাঠমান্ডুতে তিন ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টাইগাররা। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক অফিসিয়াল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সফরের এই দিনক্ষণ ও চূড়ান্ত সূচি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সিরিজের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। সূচি মোতাবেক, আগামী ২০২৭ সালের ২৬ মার্চ মাঠে গড়াবে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি। এরপর ২৮ ও ৩০ মার্চ যথাক্রমে দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচির (এফটিপি) বাইরে আয়োজিত এই সিরিজটি দুই দেশের ক্রিকেট কূটনীতি ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্পূর্ণ সিরিজটি উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। শুধু তাই নয়, মানবিক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিরিজ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ নেপালের বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। বিসিবির এমন উদ্যোগ ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের বন্ধুসুলভ ও মানবিক ভাবমূর্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না যাওয়ার নেপথ্যে আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্ত

গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ দলের নেপাল সফর নিয়ে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে বেশ আলোচনা চলছিল। নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (সিএএন) বাংলাদেশ দলকে সিরিজ খেলার আমন্ত্রণ জানানোর পর বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারীর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিরিজ আয়োজনের প্রাথমিক আলোচনা গতি পায়। 

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিসিবি কার্যালয়ে এসে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। সেখানে প্রস্তাবিত সফরের চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এই সিরিজ কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং এর মাধ্যমে নেপালের ক্রিকেটের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে বিসিবি। দুই দেশের পারস্পরিক ক্রিকেটীয় সহযোগিতার এই চুক্তির আওতায় পুরুষ ও নারী দলের সফর বিনিময়, হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) কার্যক্রমের বিস্তার, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তাসহ বিভিন্ন বহুমুখী উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাত্র দুইবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও নেপাল। ২০১৪ সালে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার দেখা হয় দুই দলের। এরপর সর্বশেষ ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেন্ট ভিনসেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হয় তারা। উভয় ম্যাচেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। 

তবে নিরপেক্ষ বা বৈশ্বিক আসরের বাইরে এই প্রথমবার নেপালের চেনা কন্ডিশনে গিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দেশের ক্রিকেটের পরিধি বিস্তার এবং সহযোগী দেশগুলোর উন্নয়নে বিসিবির এমন উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রশংস কুড়াচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়