ডিবির হাতে নতুন দুজনই প্রকৃত আসামি, র্যাবের গ্রেফতার ৩ জন নয়
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অটোরিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নতুন করে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. খোকন (৩৫) ও মো. রাজীব মাতুব্বর (৩৬)।
ডিবি দাবি করেছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে শনাক্ত হওয়া এই দুজনই ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ঘটনার সময় রাজীব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং খোকন পেছনে বসে ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেন।
ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগে র্যাব যে তিনজনকে (রাকিব হোসেন, পনি গাজী ও সেড্রিক জুলিয়ান) গ্রেপ্তার করেছিল, তদন্তে রনজিলা হত্যা মামলায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
তবে র্যাবের নতুন নামে আসা সংস্থা এসআরবি-২ জানিয়েছে, র্যাব ও ডিবির মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তারা অভিযুক্তদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছিল এবং তাঁদের দেওয়া তথ্য পরবর্তী তদন্তে সহায়তাই করেছে।
ডিবি নিশ্চিত করেছে, নিরপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পূর্বের তিনজনকে এই মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
ডিবির তেজগাঁও বিভাগ ঢাকা, সাভার ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। খোকনকে মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে এবং রাজীবকে সাভারের বিরুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার
ডিবির দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোকন ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যে মিরপুর থানার বড়বাগ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর ব্যাগ, পোশাক, বাসের টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মিরপুর-১ এলাকা থেকে নিহত শিক্ষিকার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে রাজীবের স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ২৫০ সিসির মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া রাজীবের কাছ থেকে ৬২২ পিস ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি রাজীবের নিজের এবং তিনি ছিনতাইয়ের টাকায় এটি কিনেছেন বলে ডিবিকে জানিয়েছেন।
গত ২৯ আগস্ট ভোরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন চোখের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে অটোরিকশায় উঠেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটসংলগ্ন সড়কে খেজুরবাগানের মুখে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। এতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রনজিলা। প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ৩০ আগস্ট তার স্বামী শেরেবাংলা নগর থানায় একটি অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজের মোটরসাইকেলের রঙের সাথে র্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। ফুটেজে থাকা রাজীবের বাইকটি ছিল আসল অপরাধে ব্যবহৃত যান। এছাড়া রনজিলার স্বামী ঘটনার সময় খোকনের মুখ একঝলক দেখতে পেয়েছিলেন এবং তার দেওয়া বর্ণনার সাথে খোকনের চেহারার মিল পাওয়া যায়।
ডিবি জানিয়েছে, গ্রেফতার দুজনের মধ্যে খোকন ও রাজীব পশ্চিম মনিপুর এলাকার একটি চক্রের সদস্য, অন্যদিকে র্যাবের ধরা তেজতুরীপাড়ার দলটি সম্পূর্ণ পৃথক অপরাধী চক্র। রাজীবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি ও দ্রুত বিচার আইনসহ মোট ৮টি এবং খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের ৩টি মামলা রয়েছে। অপরাধ না করেও আগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা রিমান্ড খাটায় তাদের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








