নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২৬, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে এক নারীসহ ৫ অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে এক নারীসহ ৫ অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: নিউজবাংলাদেশ (এআই)

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়রা। 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শাহবাগ এবং কামরাঙ্গীরচরের পৃথক স্থান থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। নিহতদের কারও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে এলাকায় ঘোরাফেরা করা ভবঘুরে হিসেবে স্থানীয়রা চিনলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া ইউটার্ন এলাকার আরাফ কার ওয়াশের পাশের সড়ক থেকে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। 

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন এবং ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

এর কিছু সময়ের মধ্যে মতিঝিলের নটরডেম কলেজের বিপরীত পাশের সড়ক থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি তাকে সড়ক থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। 

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির সঙ্গে এমন কোনো পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি, যার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। ফলে তার নাম-ঠিকানাও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে সকালে হাসপাতালের কর্মীরা উদ্ধার করেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সোয়া ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঢামেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাস্টার আইয়ুব আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই নারীরও কোনো পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: আদাবরে ব্যাগ থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় অজ্ঞাত

এদিকে শাহবাগ থানাধীন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মোড়ের ফুটপাত থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিজয় মণ্ডল মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে বিকেলে তা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ওই ব্যক্তির পরিচয়ও জানা যায়নি। 

স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, তিনিও দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন এবং ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সবশেষে কামরাঙ্গীরচর থানার জাউলাহাটি এলাকায় আনুমানিক ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই প্রাণেশ্বর দাস জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। স্থানীয়রা ওই বৃদ্ধকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখতেন এবং তাকে চিনলেও তার নাম, ঠিকানা বা পারিবারিক পরিচয় জানতেন না। তিনিও ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে রাজধানীর পাঁচটি পৃথক স্থানে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই মৃতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।

রাজধানীতে অজ্ঞাতপরিচয় ও পরিচয়হীন ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়েও ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিচয়হীন মানুষের মরদেহ উদ্ধারের খবর এসেছে। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পৃথক স্থান থেকে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়; এসব ঘটনার কয়েকটিতে নিহতদের ভবঘুরে হিসেবে উল্লেখ করেছিল পুলিশ।

তবে ১৪ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মৃত্যুর মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনাকেই পুলিশ হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেনি। যাত্রাবাড়ী ও কামরাঙ্গীরচরের দুজনের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের বর্ণনার ভিত্তিতে অসুস্থতা বা দীর্ঘদিনের ভবঘুরে জীবনযাপনের বিষয়টি সামনে এসেছে। মতিঝিলের ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে এবং অপর দুইজনও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর মারা গেছেন। ফলে পাঁচটি ঘটনার ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলো মৃতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে। পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়