নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৪৬, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ২১:৪৯, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ডাকসুর অনুমোদনহীন অন্যান্য সমান্তরাল কার্যক্রম নিয়েও কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সম্প্রতি সংস্কার কাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। কিন্তু এই সংগ্রহশালায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি স্থান না পেলেও পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল ও প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি স্থান পায়। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জিন্নাহর সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার ছবিও ছিল, যেখানে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ছাত্রসমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এক বিবৃতিতে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানায়, ডাকসুর এই ধরনের কর্মকাণ্ড ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও পাকিস্তান প্রীতির বহিঃপ্রকাশ। তীব্র প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবিগুলোর ফ্রেম ভেঙে তা ছিঁড়ে ফেলেন। পরবর্তীতে ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা সংগ্রহশালায় গিয়ে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ব্যঙ্গাত্মক ছবিও সাঁটিয়ে প্রতিবাদ জানান। এছাড়া ক্যাম্পাসে জিন্নাহর ছবি অপসারণ ও বঙ্গবন্ধুর ছবি পুনঃস্থাপনের দাবিতে জোরালো বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন: ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি বিতর্কের পর এবার গোলাম আযমের জুতাপেটার ছবি

সংগ্রহশালার বিতর্ক ছাড়াও ডাকসুর আরও দুটি বিতর্কিত উদ্যোগ নিয়ে কঠোর আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসন জানায়, কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে নির্ভীক জুলাই নামে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে, যার কোনো পূর্বানুমোদন সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার, ১৯৭৩-এর ২৪(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ছাত্র সংসদকে উপাচার্যের নির্দেশনা মেনে চলার বিধান রয়েছে। ফলে এই ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব টিচিং ইভালুয়েশন বা শিক্ষক মূল্যায়ন নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও ডাকসুর পক্ষ থেকে অনুমোদনহীন একটি পৃথক ওয়েবসাইট চালুর বিষয়টিও সামনে এসেছে। ওই ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার শামিল বলে মনে করছে প্রশাসন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সামগ্রিক বিষয় খতিয়ে দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, ছবি লাগানো বা ডাকসুর এসব কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি ও প্রশাসন আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সে অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন বা সমান্তরাল কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর প্রতিটি কার্যক্রমকে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থাকতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়