ক্যাম্পাস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৪২, ১৭ আগস্ট ২০২৬

যৌন হয়রানির দায়ে রাবি অধ্যাপককে স্থায়ী বরখাস্ত

যৌন হয়রানির দায়ে রাবি অধ্যাপককে স্থায়ী বরখাস্ত

অধ্যাপক প্রভাষ কুমার। ছবি: সংগৃহীত

যৌন হয়রানির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় অধ্যাপক প্রভাষ কুমারকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অধ্যাপক প্রভাষ কুমার। তার দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন এবং তদন্তে তাকে যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি।

অধ্যাপক প্রভাষ কুমার বলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তদন্তে নিজের প্রতিনিধি রাখার জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিলেও কোনো সাড়া পাননি। তার অভিযোগ, একতরফাভাবে ষড়যন্ত্র করে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার পাননি।

তবে তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ। তিনি জানান, যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত দুটি কমিটি তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

রেজিস্ট্রার বলেন, উচ্চতর তদন্ত কমিটিতে অধ্যাপক প্রভাষ কুমারের একজন প্রতিনিধি দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে তিনি প্রতিনিধি দেননি। বিভিন্ন সময়ে তিনি লিখিতভাবে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে।

এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাষ কুমারের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে ওই শিক্ষার্থীর মা গত বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করে।

আরও পড়ুন: পাবিপ্রবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড

এদিকে বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক প্রভাষ কুমারকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়