৪৪ বছর পর স্মৃতির পাতায় ফিরলেন ঢেমশা স্কুলের প্রাক্তনরা
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ের ব্যবধান ঘুচিয়ে শেকড়ের টানে একত্রিত হয়েছিলেন পুরোনো বন্ধুরা। শৈশব-কৈশোরের সোনালী দিনগুলো একসঙ্গে কাটানোর দীর্ঘ ৪৪ বছর পর শিক্ষক ও সহপাঠীদের মহামিলনে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঢেমশা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৭৯-১৯৮৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর পোর্ট কানেকটিং রোডস্থ প্রিপস গার্ডেন হলরুমে (কোনো কোনো সূত্রে প্রিন্স গার্ডেন) এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
রূপালী ব্যাংক পিএলসি-এর মহাব্যবস্থাপক এবং ১৯৭৯-১৯৮৪ ব্যাচের গর্বিত সদস্য এস এম দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ আবু হেনা মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল। শৈশবের দূরন্তপনা ও কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোর আলাপচারিতায় তাদের সাবলীল উপস্থাপনা পুরো অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক কৃতি শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি এবং স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাশার গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর আবু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষকরা হলেন সেই শিক্ষার মেরুদণ্ড। আদর্শ শিক্ষা বিস্তারের জন্য প্রতিভাবান শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন: এবার রাবি শিক্ষিকার ব্যাগ ধরে ছিনতাইকারীর টান
তিনি আরও যোগ করেন, আজ থেকে ৪৪ বছর আগে আমরা এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে কর্মজীবনে প্রবেশ করি। আজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা প্রতিষ্ঠিত, যার পেছনে আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। সৃষ্টিকর্তার দরবারে এজন্য শুকরিয়া আদায় করছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা ও দায়রা জজ সিরাজদ্দৌলা কুতুবী, জি.কে. স্টিলের পরিচালক রেজাউল কাদের মিঠু, বিদ্যালয়ের প্রবীণ ও সাবেক শিক্ষক অমরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এবং নাজিবুদ্দৌলা খান প্রমুখ। শিক্ষাগুরুদের সান্নিধ্যে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক শিক্ষার্থীরা।
যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শিতায় এই সুদীর্ঘ আয়োজন সফল রূপ লাভ করেছে, তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানানো হয়। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি সার্থক করার নেপথ্য কারিগর হিসেবে যাদের নাম বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়, তারা হলেন বরুন দাশ, উদয় শংকর চৌধুরী, পলক পালিত (পুলক পালিত), কমল চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, মোহাম্মদ শাহআলম এবং লিপি চক্রবর্তী।
বক্তারা বলেন, বন্ধুদের এই অকৃত্রিম প্রচেষ্টা ও ভালোবাসার কারণেই সুদূর অতীতকে আবার বর্তমানের ফ্রেমে বন্দি করা সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সহপাঠীরা একে অপরের গলা জড়িয়ে ধরে ফেলে আসা স্কুলজীবনের নানা প্রাঙ্গণ, ক্লাসরুমের দুষ্টুমি এবং কৈশোরের নানা রোমাঞ্চকর স্মৃতির রোমন্থন করেন। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নিজেদের সফল করে তোলার পেছনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুশিক্ষার ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেলে প্রধান অতিথির সৌজন্যে ঐতিহ্যবাহী মধ্যাহ্নভোজ এবং পরবর্তীতে চা-চক্রের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক মিলনমেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








