নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:০০, ২৯ জুন ২০২৬

সৌদিতে প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কড়া নির্দেশনা

সৌদিতে প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কড়া নির্দেশনা

ফাইল ছবি

সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থান ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করতে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কিওয়া (Qiwa) এক কঠোর ও সময়োপযোগী নির্দেশনা জারি করেছে। 

সৌদি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রশাসন প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন এবং তাদের সেবার স্থানাস্তর প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আগামী ১ জুলাই থেকে কঠোর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে।

নিয়োগকর্তাদের জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন সম্পন্ন করতে হবে, অথবা প্রয়োজনে কর্মীর সেবা অন্য কোনো অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। 

প্ল্যাটফর্মটি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, নির্ধারিত এই সময়সীমার পর অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় থাকবে, তাদের নাম সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণ করা হবে। অর্থাৎ, ওই কর্মী আর ওই প্রতিষ্ঠানের অধীনে নিবন্ধিত হিসেবে গণ্য হবেন না।

আরও পড়ুন: কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যু

ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কিওয়া প্ল্যাটফর্ম একটি বিশেষ ও ব্যতিক্রমী নিয়মের বিষয় স্পষ্ট করেছে, যা প্রতিটি নিয়োগকর্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তার ইকামা বা বাসস্থান অনুমতির মেয়াদ এখনও অন্তত ১৮০ দিন বা তার বেশি অবশিষ্ট থাকে, তবে ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন তাৎক্ষণিক সম্ভব না হলেও ওই কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে অপসারণ করা হবে না। 

অন্যদিকে, যদি কোনো কর্মীর ইকামার মেয়াদ ১৮০ দিনের কম থাকে, তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত জরিমানা এড়াতে নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই ওয়ার্ক পারমিটের পাশাপাশি ইকামাটিও একই সঙ্গে নবায়ন করতে হবে।

এই কঠোর নির্দেশনার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়েও বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মীকে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করানোর দায়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার ওপর আর্থিক দায়ভার বর্তাবে। যে সময় পর্যন্ত কর্মী ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করেছেন, সেই সময়ের সমস্ত বকেয়া ফি এবং আর্থিক জরিমানা সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তাকেই পরিশোধ করতে হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে কিওয়া কর্তৃপক্ষ নিয়োগকর্তাদের দ্রুত বকেয়া ফি পরিশোধ করে কর্মীদের কাগজপত্র বৈধ করার বা প্রয়োজনে অন্য প্রতিষ্ঠানে তাদের সেবা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জোর আহ্বান জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সৌদি আরবের শ্রমবাজারের আইনি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়