হাম-উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
ফাইল ছবি
দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া চলতি বছরের এই প্রাদুর্ভাবে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, মোট প্রাণহানির এই সংখ্যার মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত করা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০২ জন এবং বাকি ১ হাজার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের তীব্র উপসর্গ বা সন্দেহজনক সংক্রমণ নিয়ে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৪২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ বা সন্দেহভাজন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ল্যাবরেটরি টেস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ২১ হাজার ৬২৩ জনের দেহে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
আঞ্চলিক সংক্রমণের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব ও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৩২
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কেবল ঢাকা বিভাগেই হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে এবং ১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে নিশ্চিত হামে। সামগ্রিক প্রাদুর্ভাবেও ঢাকা বিভাগে মৃত্যুর হার ও আক্রান্তের সংখ্যা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় শীর্ষে রয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগেও কমবেশি হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ২১ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩৩ জন রোগী।
চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি ও যথাযথ চিকিৎসা নেওয়ার ফলে সুস্থতার হার সন্তোষজনক হলেও, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের জটিলতা এড়াতে সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








