জুমার দিনে বেশি বেশি পড়ুন যে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
ছবি: সংগৃহীত
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার আশা করা যায়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন সম্পর্কে বলেছেন-
فِيهِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي، يَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَأَشَارَ بِيَدِهِ يُقَلِّلُهَا
অর্থ: জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা ওই সময় নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তাকে তা দান করেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) হাতের ইশারায় বোঝান, সময়টি খুবই অল্প।
-সহিহ বুখারি, ৯৩৫
তাই জুমার দিনে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। বিশেষ করে দোয়া কবুলের সম্ভাবনাময় সময়গুলোতে নিজের প্রয়োজন, গুনাহের ক্ষমা, হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যায়। আলেমরা জুমার দিনে দোয়া কবুলের সময় হিসেবে খুতবার সময় থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন।
এ দিনে কোরআনে শেখানো বিভিন্ন দোয়া পড়া যেতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি দোয়া হলো-
১. দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের দোয়া
দুনিয়া ও আখেরাতের সামগ্রিক কল্যাণ চেয়ে আল্লাহ তাআলা এই দোয়া শিখিয়েছেন-
رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي ٱلْءَاخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দিন। আর আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
-সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২০১
এই সংক্ষিপ্ত দোয়ায় দুনিয়ার কল্যাণের পাশাপাশি আখেরাতের মুক্তির প্রার্থনাও রয়েছে।
২. হেদায়াতের পর অন্তর সঠিক রাখার দোয়া
হেদায়াত পাওয়ার পর যেন মানুষ পথভ্রষ্ট না হয়, সে জন্য আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করা যায়-
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি আমাদের হেদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরগুলো বক্র করে দেবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।
-সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৮
৩. গুনাহ ক্ষমা ও নেককারদের সঙ্গে থাকার দোয়া
নিজের গুনাহ ও ভুলত্রুটির ক্ষমা এবং উত্তম পরিণতির জন্য এই দোয়াটি পড়া যায়-
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করুন, আমাদের পাপগুলো মোচন করুন এবং আমাদের নেককারদের সঙ্গে মৃত্যু দিন।
-সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯৩
আরও পড়ুন: মডেল মসজিদের ইমাম পাবেন ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ১৫ হাজার
৪. নিজের, বাবা-মা ও মুমিনদের জন্য দোয়া
শুধু নিজের জন্য নয়, বাবা-মা এবং সব মুমিনের জন্যও দোয়া করতে শেখানো হয়েছে-
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
অর্থ: হে আমার রব, আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব, আমার দোয়া কবুল করুন। হে আমাদের রব, যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে, আমার বাবা-মাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করুন।
-সূরা ইবরাহিম, আয়াত ৪০–৪১
জুমার দিন তাই নামাজ আদায়ের পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার ও আল্লাহর জিকির করা যেতে পারে। দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি নির্দিষ্টভাবে জানা না থাকায় জুমার দিনের বিভিন্ন সময়ে আন্তরিকভাবে দোয়া করার সুযোগ রয়েছে।
আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন, গুনাহের ক্ষমা, হেদায়াত, পরিবার ও সব মুমিনের কল্যাণের জন্য দোয়া করা যেতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








