নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৩১, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাবিতে ওসমান হাদি হলের নাম মুছে ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

ঢাবিতে ওসমান হাদি হলের নাম মুছে ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে শহীদ ওসমান হাদি হল নামফলক সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে হলটিতে আবারও প্রশাসনিকভাবে পূর্বের শেখ মুজিবুর রহমান হল নামটি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে হলের মূল ফটকে এই নাম পরিবর্তনের কার্যক্রম শুরু হয়, যা নিয়ে ইতিমধ্যে ক্যাম্পাস অঙ্গনে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

হলের নাম পরিবর্তনের এই প্রেক্ষাপট ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই হলের নাম ফলকে ভাঙচুর চালিয়ে তা পরিবর্তন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর, একদল শিক্ষার্থী হলের প্রধান ফটকে শহীদ ওসমান হাদি হল লেখা ব্যানার ও নামফলক টাঙিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের জোরালো দাবির মুখে গত ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদি হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল করার সুপারিশ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে হলের দাপ্তরিক কাগজপত্রেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শব্দগুচ্ছ বাদ দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন

তবে গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে শেখ পরিবারের নামে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। সিনেট অধিবেশনে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ভিন্নমত ও দীর্ঘ আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসার জেরে সে সময় ডাকসুর কয়েকজন সিনেট সদস্য অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটও করেছিলেন। প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত কোনো রূপ বা সিন্ডিকেট-সিনেটের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন না পাওয়ায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে জটিলতা এড়াতে এবার হল প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

নামফলক অপসারণ ও নাম পরিবর্তনের বিষয়ে হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জবান আলী গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মৌখিকভাবে হলের নাম সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। হলের বাইরে এক নাম, ভেতরে আরেক নাম এবং সনপত্র ও দাপ্তরিক কাগজপত্রে ভিন্নতার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এমনকি সাধারণ রিকশাচালকরাও চরম বিভ্রান্তির মুখে পড়ছেন। এই প্রশাসনিক জটিলতা ও বিভ্রান্তি নিরসনেই মূলত হল প্রশাসনের উদ্যোগে এই নামফলক মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজেও এখন থেকে শেখ মুজিবুর রহমান হল নামটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানান, গত সিনেট অধিবেশনে আগের নামগুলো পরিবর্তনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তাই নিয়মানুযায়ী হলটি তার পূর্বের নামেই ফিরে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হল সংসদের ভিপি মো. মুসলিমুর রহমান। তিনি দাবি করেন, নাম মুছে ফেলার বা পরিবর্তনের এই বিষয়টি সম্পর্কে হল সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি এবং তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন।

অন্যদিকে, শেখ মুজিবুর রহমান হলের বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামফলক সরানোর একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন যে, হলের সঠিক নাম ও পরিচয় নিয়ে এত দিন যে বিভ্রান্তি ছিল, তা আজ থেকে দূর হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক জটিলতার অবসান ঘটাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে হলের পুরোনো নাম ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়া বর্তমানে ক্যাম্পাসের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়