নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘প্রকৃত সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য’

‘প্রকৃত সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য’

ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকদের সংজ্ঞা নির্ধারণ, পেশাগত অধিকার রক্ষা, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে সচিবালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কনসালটেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই সভাটি আয়োজিত হয়।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী স্পষ্ট করে জানান যে, প্রকৃত সাংবাদিকরা যাতে কোনোভাবেই তাদের প্রাপ্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন এবং সাংবাদিক নন এমন কেউ যেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, সে জন্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যম-এর সংজ্ঞা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। 

সাংবাদিকদের পেশাগত স্বীকৃতি ও মর্যাদা রক্ষার্থে বার কাউন্সিলের আদলে একটি স্বাধীন বা সুস্পষ্ট কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন যে, এ বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও মতামত চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড, পেশাগত অধিকার এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সম্পাদকরা আইনটি যেন কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক বা বাকস্বাধীনতা হরণের হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নোয়াব সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী মন্তব্য করেন যে, যথাযথ সংশোধনী ছাড়া এই আইন পাস হলে তা দেশকে এক বিশাল কারাগারে পরিণত করতে পারে। 

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম খসড়ার বিভিন্ন ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এর ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতায় গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও অন্যান্য গণমাধ্যম সংগঠনও এর আগে এই খসড়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিল।

আরও পড়ুন: ভ্যাট রিটার্নে নতুন সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি ও ভিকটিমাইজেশন রোধ করতে গ্রেফতারের পূর্বে আদালতের অনুমতি নেওয়ার একটি ইতিবাচক প্রস্তাব এসেছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে, যাতে কেউ অনির্দিষ্টকাল আইনি প্রক্রিয়ায় ঝুলে না থাকে। এছাড়া খসড়াটি তাড়াহুড়ো করে সংসদে পাস না করে অংশীজনদের মতামত নিয়ে এবং খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সর্বসাধারণের মতামতের সুযোগ রাখা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

আইনটির খসড়ায় মৌলিক ও গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন আনতে সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাংবাদিক, সম্পাদক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি বিশেষ পর্যালোচনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে তাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা পেশ করবে। প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ এই পর্যালোচনা কমিটির ফোকাল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আইন ও নীতিমালা সমন্বয়ের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় এবং আইটি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা এতে যুক্ত থাকবেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, একুশে টেলিভিশনের সিইও আবদুস সালাম, আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সিইও মোস্তফা আকমল, ডা. শাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাবেক সভাপতি শারমিন রিনভী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইউএনবির ডেপুটি এডিটর মাসউদুল হক, আমার দেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী প্রমুখ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়