রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু অক্টোবরে
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আগামী অক্টোবর মাস থেকে এই জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ তা পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র ও রোসাটমের ঘোষণা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি কয়েকটি বিশেষ কার্গো ফ্লাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে। পূর্বে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম চালানটি আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী অক্টোবর থেকে এই চালান আসার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত তা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান সফলভাবে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছিল।
রাশিয়ার নির্ধারিত উড়োজাহাজে ইউরেনিয়াম লোড করার পরও তা নির্দিষ্ট সময়ে না আসার মূল কারণ ছিল রুট বা আকাশসীমা সংক্রান্ত জটিলতা। কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের আকাশসীমা হয়ে জ্বালানি বহনকারী বিমানটির ঢাকায় আসার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ফ্লাইটটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় রুশ কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের বিমান আটকে দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান
এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে জানান যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সুনির্দিষ্ট কারণও তখন জানানো হয়নি। অন্যদিকে, ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন এই ঘটনাকে সরাসরি আকাশসীমা বাতিলের পরিবর্তে কেবল কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত (টেকনিক্যাল অ্যান্ড প্রসিডিউরাল ইস্যু) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এভিয়েশন প্রোটোকল ও সমন্বয়হীনতার কারণে মাঝেমধ্যে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে, যা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটার কোনো অবকাশ নেই।
পাকিস্তান কর্দৃক আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার পর রাশিয়া ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বিকল্প রুট ব্যবহারের কথা চিন্তা করছে। চীন ও মিয়ানমার কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ আকাশপথ ব্যবহার করে এই জ্বালানি আনার বিকল্প পথ নিয়েও পর্যালোচনা চলছে, যাতে কূটনৈতিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।
তবে রোসাটম ও প্রকল্প পরিচালক কবির হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, এই সাময়িক বিলম্বের কারণে রূপপুর প্রকল্পের মূল কার্যক্রমে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
উল্লেখ্য, ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই মেগাপ্রকল্পের সিংহভাগ অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। দুটি ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। এর আগে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং বা ফিজিক্যাল স্টার্টআপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু হলে এই প্রকল্পের কমিশনিং কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








