‘বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন’
ফাইল ছবি
বিরোধীদলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। জুলাই জাতীয় সনদে বিরোধী দলের দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামোসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে খোলামেলা আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে বিএনপির বা অন্য কোনো পক্ষের নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত রয়েছে, সেসব বিষয় নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে বিশেষ কমিটিতে এসে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে। সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের স্বার্থেই বিরোধী দলকে কমিটিতে সদস্য মনোনীত করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত বিরোধী দল থেকে কোনো প্রতিনিধির নাম দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: সংবিধানে ফিরছে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা, পাস হলেই হবে গণভোট
কমিটির কার্যপদ্ধতি ও ভিত্তি সম্পর্কে জানানো হয় যে, জুলাই জাতীয় সনদই এই কমিটির কাজের মূল ভিত্তি। সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর যে ঐকমত্য রয়েছে, তার পাশাপাশি বিভিন্ন দলের ভিন্নমত এবং নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। অধ্যাপক আলী রিয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে অতীতে সংলাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন অংশীজন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতকে এক করে প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
আসন্ন সংবিধান সংশোধনীতে নানা মৌলিক পরিবর্তন আসায় সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী আবারও গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কমিটির সভাপতি। এ প্রসঙ্গে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিল পাস হওয়ার পর এবং রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে নির্দিষ্ট বিধানগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জনগণের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
এছাড়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের মতো প্রস্তাবগুলো নিয়েও কমিটিতে বিস্তারিত ও খোলামেলা আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সব মহলের মতামত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বছরের প্রথম অধিবেশনে এই সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিশেষ কমিটি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








