অক্টোবরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম
ফাইল ছবি
দেশের বাজারে চলতি অক্টোবর মাসে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, সদ্য নির্ধারিত আগের মূল্যহারই পুরো মাসজুড়ে কার্যকর থাকবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এনামুল হকের সই করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
বর্তমান নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রধান জ্বালানিগুলোর দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও এই দফায় ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ফ্রেইট চার্জ বা পরিবহন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ লাগাতার বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তা দ্বিগুণের বেশি ছাড়িয়ে যায়। বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের দর এত বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার পরও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর জন্য সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশের বাজারে দাম বাড়ায়নি। এর ফলস্বরূপ মার্চ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হয়। পরবর্তীতে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে বাস্তবসম্মত সামঞ্জস্য আনা, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর বরাদ্দ সচল রাখা এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচার রোধ করার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কারণে সরকার বাধ্য হয়ে দাম সমন্বয়ের পথে হেঁটেছিল।
আরও পড়ুন: লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়লো ফার্নেস অয়েলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে নিয়মিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তেলের মূল্য স্বয়ংক্রয়ভাবে সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা নির্দেশিকা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের প্রকৃত আমদানিমূল্যের তারতম্যের ভিত্তিতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম বা বেশি হওয়ার কথা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থানীয় মুদ্রার সঙ্গে মূল্যের বড় ধরনের ফারাক থাকলে সীমান্ত অঞ্চলে জ্বালানি তেল পাচার হয়ে যাওয়ার বহুমুখী ঝুঁকি তৈরি হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া অকটেন ও পেট্রোল সাধারণত ব্যক্তিগত যানবাহনে বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় প্রাইসিং ফর্মুলা বা মূল্যের আনুপাতিক হার অনুযায়ী ডিজেলের তুলনায় এগুলোর দাম সবসময় কিছুটা উঁচুতে রাখা হয়।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বিশ্ববাজারের গতিপ্রকৃতি যদি আগামীতে আরও স্থিতিশীল হয়, তবে জ্বালানি তেলের মূল্য আরও পুনর্বিন্যাস করার কথা বিবেচনা করা হতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








