নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫০, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ১৯:৫৩, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতের ঘোষণা সরকারের

প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতের ঘোষণা সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বহুমুখী ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)। এটি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। 

সরকারের নীতিনির্ধারক মহল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি এবং মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও মানুষের গড় আয়ু ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই দীর্ঘায়ু যেমন একদিকে প্রবীণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করছে, অন্যদিকে তাদের জীবনকে নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বলয় এবং পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী করে তোলার তীব্র প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে।

একটি কল্যাণমুখী, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যের অংশ হিসেবে সরকার প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জীবনচক্রের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদেয় অঙ্গীকার ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র, পিছিয়ে থাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তাকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রবীণ নাগরিকদের কোনোভাবেই অবহেলার পাত্র না ভেবে, বরং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে তাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা এবং একটি শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

প্রবীণদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে এর উপকারভোগীর সংখ্যাও সন্তোষজনকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান ও যুগান্তকারী নির্বাচনী অঙ্গীকার হলো ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। চলতি বছরের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও বেশি সুদৃঢ় ও গতিশীল করার কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। এর ফলে সাধারণ প্রবীণ ও তাঁদের পরিবারগুলো সরাসরি আর্থিক ও চিকিৎসাগত সুবিধা লাভ করছে।

পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র এই তিন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি, নৈতিক দায়িত্ব ও সংবেদনশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবীণ ব্যক্তিরা হলেন আমাদের সমাজ ও পরিবারের মূল ভিত্তি; তাদের বর্ণাঢ্য ত্যাগ, দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা এবং অমূল্য প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করেই আজকের স্বাধীন ও আধুনিক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তাই একটি পুরোপুরি কল্যাণমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য। 

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতির আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধগুলো যত বেশি অটুট ও সক্রিয় থাকবে, সমাজে প্রবীণদের যথাযথ যত্ন, সম্মান এবং মর্যাদা তত বেশি সুরক্ষিত ও স্থায়ী হবে বলে জোরালো বিশ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এই পবিত্র ও শুভলগ্নে দেশের সব প্রবীণ নাগরিককে আন্তরিক শ্রদ্ধা, উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এমন একটি সাম্যভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য, যেখানে বয়সের বৈষম্য ছাপিয়ে তরুণ কিংবা প্রবীণ প্রতিটি মানুষ তাদের নিজ নিজ সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বিকশিত ও কাজে লাগিয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬-এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য ও প্রবীণদের সর্বকালীন কল্যাণ কামনা করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়