নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:২৮, ২ অক্টোবর ২০২৬

চলে গেলেন বিডিনিউজ সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী

চলে গেলেন বিডিনিউজ সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্ব তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

শুক্রবার (০২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল এবং তার আকস্মিক প্রয়াণে দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিডিনিউজের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দায়িত্বশীল একাধিক সহকর্মীর সূত্রে জানা যায়, তৌফিক ইমরোজ খালিদী কিছুদিন আগে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে (ছেলের সঙ্গে দেখা করতে) লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার রাতে হোটেল কক্ষে হঠাৎ মাথা ঘুরে তিনি পড়ে যান। পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

চিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে (স্ট্রোক) তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিডিনিউজের চিফ রিপোর্টার সুমন মাহমুদ ও মাল্টিমিডিয়া প্রধান জাহেদুল আই খান তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতা জীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্র্যময়। সম্প্রচার, প্রিন্ট ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার এই তিন মাধ্যমেই তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশের মূলধারার ব্রডশিট পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন; এছাড়া তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর নিউজ এডিটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে গিয়ে বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে উপস্থাপক, প্রযোজক ও সম্পাদক হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। বিবিসি ও প্রবাসের পাট চুকিয়ে ২০০৬ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং নতুন ব্যবস্থাপনায় অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বেই বিডিনিউজ ইন্টারনেটে বাংলাদেশের প্রথম সার্বক্ষণিক সংবাদ প্রকাশক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং দেশের অনলাইন সাংবাদিকতার অগ্রযাত্রায় মাইলফলক স্থাপন করে। ব্যবসা, রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার রিপোর্টিং ও বিশ্লেষণ ছিল গভীর প্রশংসনীয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশের বিকাশ এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিপ্লবে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৭ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তাকে ডিজিটাল বাংলাদেশ উন্নয়নে বিশেষ স্বীকৃতি ও সম্মাননা হিসেবে জাতীয় আইসিটি পুরস্কার প্রদান করা হয়। তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার হাতে ওই সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়েছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন; যার মধ্যে ২০১৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ রাইজিং কনফারেন্সে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ অন্যতম। এছাড়া তার কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে পেশাগত চ্যালেঞ্জ ও আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হলেও তিনি সবসময় পেশাদারিত্বের সাথে তা মোকাবিলা করেছেন এবং পরবর্তীতে আদালত থেকে সকল অভিযোগ থেকে অব্যাহতি লাভ করেন।

একজন সাহসী গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও প্রথিতযশা সম্পাদকের প্রয়াণে দেশের সংবাদজগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। তার সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়