নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:১১, ২ অক্টোবর ২০২৬

কালিনিনগ্রাদে হামলা হলে সব অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের

কালিনিনগ্রাদে হামলা হলে সব অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি পুতিনের

ফাইল ছবি

রুশ ভূখণ্ড ও বাল্টিক সাগরের কৌশলগত এক্সক্লেভ কালিনিনগ্রাদে কোনো ধরনের সরাসরি হামলা হলে পরমাণু অস্ত্রসহ মজুত থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোয় অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ভালদাই আলোচনা ক্লাবের ২৩তম বার্ষিক সভায় এই কড়া বার্তা দেন তিনি। 

একই সঙ্গে পুতিন স্পষ্ট করেছেন যে, ইউরোপের কোনো দেশ আক্রমণ করার বা তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধ শুরুর কোনো পরিকল্পনা মস্কোর নেই।

পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অতি সংবেদনশীল ভূখণ্ড। সাম্প্রতিক সময়ে বাল্টিক সাগরে একের পর এক সামরিক মহড়া, রুশ জাহাজ আটকের চেষ্টা এবং অঞ্চলটিকে ঘিরে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর নানা পদক্ষেপে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভালদাই ফোরামে পুতিন বলেন, কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার অন্য কোনো ভূখণ্ডে সরাসরি আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব দেওয়া হবে অবধারিত এবং তাৎক্ষণিক। এর আগে কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো অবাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি থাকার কথা জানিয়ে ন্যাটোকে কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছিল মস্কো।

পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চলমান এই বৈরিতার মুখে পুতিন স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ন্যাটো আকারে রাশিয়ার চেয়ে বহুগুণ বড় একটি শক্তির মুখোমুখি। তবে রাশিয়া তার কৌশলগত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাগুলোকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর পারমাণবিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অবগত আছেন, তবে রাশিয়ার ভাণ্ডারে বর্তমানে যে ধরনের সর্বাধুনিক ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রয়েছে, তা অন্য কারও নেই।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানি বিমান হামলায় ২২ আফগান যোদ্ধা নিহতের দাবি, কাবুলের অস্বীকার

বর্তমান বিশ্ব এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ও সংকটময় মুহূর্ত পার করছে বলে সতর্ক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাতে ক্রমাগত উত্তেজনার পারদ চড়তে চড়তে মানবতা এমন এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে, যেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র কখনোই ব্যবহার হবে না এমন নিশ্চয়তা এখন আর দেওয়া যায় না।

ইউক্রেন সংঘাত প্রসঙ্গে পুতিন পশ্চিমাদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাশিয়াকে উসকানি দেওয়া এবং ইউক্রেনকে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের জিডিপি প্রায় ১ শতাংশ কমেছে এবং কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার শতাধিক জলযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাশিয়াও এর উপযুক্ত ও কঠোর পাল্টা জবাব দিচ্ছে।

রাশিয়ার এমন হুশিয়ারির পর ন্যাটো পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা সম্পূর্ণ একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং তাদের কোনো সামরিক মহড়া কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়। তবে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো বিশেষ করে পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া এবং জার্মানি মহাদেশজুড়ে হাইব্রিড যুদ্ধ, অন্তর্ঘাত এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের মতো ঘটনা বৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছে মস্কোর বিরুদ্ধে। 

তা সত্ত্বেও পুতিন পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, রাশিয়া ইউরোপের কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর পরিকল্পনা রাখছে না এবং সুসম্পর্ক বা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষেই রয়েছে, তবে যেকোনো আগ্রাসনের মুখেই তারা জবাব দিতে বাধ্য হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়