নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩১, ৩১ আগস্ট ২০২৬

আগস্টে ৩০ দিনে রেমিট্যান্স ২৮৩ কোটি ডলার

আগস্টে ৩০ দিনে রেমিট্যান্স ২৮৩ কোটি ডলার

ফাইল ছবি

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে এনে বড় ধরনের উল্লম্ফন অব্যাহত রেখেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে দেশে ২৮৩ কোটি বা ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পরিসংখ্যান দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক বহিঃখাতের স্থিতিশীলতাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের (২০২৫ সাল) একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। 

ব্যাংকারদের মতে, হুন্ডির দৌরাত্ম্য কিছুটা কমে আসার পাশাপাশি বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় প্রবাসীরা এখন নিয়মিতভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে কেবল একক মাসেই নয়, বরং চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক কার্যক্রমেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত) বৈদেশিক আয়ের এই শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দেশের আর্থিক খাতে স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রিজার্ভ সবক্ষেত্রেই এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ ও মুদ্রাস্ফীতির মধ্যেও রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।

আরও পড়ুন: আগস্টের ২৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬৭ কোটি ডলার

রেমিট্যান্সের সামগ্রিক চিত্র অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক হলেও ব্যাংকিং খাতের ভেতরে এখনো বৈষম্য ও দুর্বলতা রয়ে গেছে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২৯ দিনে দেশের মোট আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো ধরনের রেমিট্যান্স আসেনি। এই তালিকায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল) এবং বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। 

এছাড়া বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক পিএলসি এবং বিদেশি খাতের ব্যাংক আল ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এই ব্যাংকগুলোতেও কোনো প্রবাসী আয় জমা হয়নি। মূলত দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ত্রুটি, আস্থার সংকট এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর ছোট পরিসরের কার্যক্রমের কারণেই এই ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স আকর্ষণে পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সামগ্রিভাবে, দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি অংশে স্থবিরতা থাকলেও সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহের এই দুর্দান্ত গতি বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ভিতকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। সঠিক মনিটরিং এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়