অন্তর্দলীয় ষড়যন্ত্র নিয়ে তারেক রহমানকে মির্জা আব্বাসের সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারেরউন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড কিছু অসাধু ব্যক্তির নেতিবাচক আচরণ ও চাটুকারিতার কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি দল ও সরকারের স্বার্থে ভেতরের ও বাইরের সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে সর্বদাই কঠোর ও সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের নানা প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড কিছু অসাধু ব্যক্তির নেতিবাচক আচরণ ও চাটুকারিতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।
একই সঙ্গে দলের ভেতরে ও বাইরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রীকে সর্বদাই কঠোর ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মির্জা আব্বাস বলেছেন, দলের অনেক নেতা-কর্মী প্রধানমন্ত্রীর সামনে ভালো কথা বললেও আড়ালে ভিন্ন ধরনের আচরণ করেন। তাই দল ও দেশের স্বার্থে নেতৃত্বকে আরও কঠোরভাবে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সরাসরি তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, এই দলের বিরুদ্ধে এবং আপনার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। আপনি দয়া করে সাবধান থাকবেন। আপনি অনেক উদার, কিন্তু সবসময় সব জায়গা বা সব মানুষ একরকম হয় না।
তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, নেতা-কর্মীদের আচরণ এবং সরকারের কাজের বিষয়ে নেতৃত্বকে আরও সতর্ক ও তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মির্জা আব্বাস বলেন, তারেক রহমান ইতোমধ্যে অনেক প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। তবে কিছু মানুষের খারাপ কথা ও কর্মকাণ্ডের কারণে সেই ভালো কাজগুলোও ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
তার ভাষায়, আপনি ইতোমধ্যে অনেক ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো আপনার এসব মহৎ কাজগুলো কিছু খারাপ লোকের আচরণ ও মন্দ কথায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর নজর রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সব সময় ও সব ক্ষেত্রে উদার হওয়া সম্ভব নয়। দলীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় জায়গায় শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, অনেক নেতা-কর্মী প্রধানমন্ত্রীর সামনে ভালো কথা বললেও আড়ালে ভিন্ন ধরনের আচরণ করেন। এ কারণে তৃণমূলের প্রকৃত চিত্র, নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, নেতাকে ফাঁকি দেওয়া মানে নিজেকে, দেশকে ফাঁকি দেওয়া।
তার মতে, দলের ঐক্য অটুট রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দল ও দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: সংকটে জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: তারেক রহমান
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, তাকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে এমন কথা তিনি বলছেন না। তবে যেভাবে তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থতার মধ্যে মৃত্যুর দিকে এগিয়েছেন, তা কারও কাম্য ছিল না। বক্তব্যের এই অংশে তিনি দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, নেতৃত্বের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপিকে তিনি প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। দলের ৪৮ বছরের পথচলায় অনেক কিছু হারিয়েছেন, অনেক কিছু মিস করেছেন, কিন্তু কোনোদিন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান মিস করেননি। সেই ভালোবাসা থেকেই এবারও তিনি অনুষ্ঠানে এসেছেন বলে জানান। এ সময় তিনি দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভা ছিল দলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, রাজনৈতিক আদর্শ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করার অন্যতম প্রধান কর্মসূচি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি এবার ৪৮ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটি ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি ছিল।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তারেক রহমান দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বিএনপিকে জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করেন।
দলের ৪৮ বছরের পথচলা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এবং খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শকে ধারণ করে দলটি বর্তমান নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মির্জা আব্বাসের বক্তব্যে দলীয় ঐক্য, নেতৃত্বের প্রতি সতর্কতা, তৃণমূলের সঠিক তথ্য এবং সরকারের কাজের বিষয়ে জবাবদিহির গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








