নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০৯, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ১৬:১০, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সুনির্দিষ্ট কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। 

তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান থাকলেও এর দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে চলতি মাসের ৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর, সেখান থেকে দেশে ফেরার পরই এই সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হতে পারে।

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী এবং সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরী।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা ও সাফল্যের রূপরেখা নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে আসছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বেইজিং, ওয়াশিংটন, রিয়াদ ও মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিগত ছয় মাসে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বর্তমান সরকারের দৃশ্যমানতা এবং কৌশলগত গুরুত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করছে। পাশাপাশি ভুটান, বাহরাইন ও শ্রীলঙ্কার মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গেও সরকার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অত্যন্ত দক্ষ ও পেশাদার ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য নাম।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের ভারত সফরে আশাবাদী দিল্লি

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও আলোচনার পথ কখনো বন্ধ হয়নি। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই এই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে এবং এর ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাস্তবতাবোধ। এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং উদ্বেগের বিষয়গুলো দিল্লি উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। এছাড়া সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশবিরোধী অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রমূলক সেমিনার দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপে বাতিল হওয়াকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ঢাকা। অন্যদিকে কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেল সংক্রান্ত জটিলতা ও ভোগান্তির বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের প্রস্তাবিত মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশই নিজেদের কৌশলগত ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক নিরাপত্তা জোটে যুক্ত থাকছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দলীয় বা ভূ-রাজনৈতিক কোনো প্রভাবে নয়, বরং সম্পূর্ণ জাতীয় স্বার্থের পরিধি বিবেচনা করে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, সরকার ঠিক সেখানেই অবস্থান নেবে।

বিগত আমলের জ্বালানি খাতের কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে কীভাবে সুপরিকল্পিত ও সাইকোপ্যাথিক কায়দায় দুর্নীতি করা হয়েছে, তা দেশের এনার্জি সেক্টরের দিকে তাকালেই পরিষ্কার হয়ে যায়। তবে বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হতে পারে না; বরং বৈশ্বিক অঙ্গনে সফল হতে হলে এই দুই নীতিকে অবশ্যই সমন্বিত ও পরিপূরক হতে হবে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতির মূল লক্ষ্য হলো দেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এভিয়েশন খাতের হারানো রাজস্ব পুনরুদ্ধার করা এবং বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব বা বিমান চলাচলের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বারে রূপান্তর করা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে কোনো বাহ্যিক রাজনৈতিক চাপ নেই স্পষ্ট করে তিনি বলেন, দেশের এভিয়েশন খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা আছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এর বহর আরও বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে বিগত সরকারের আমলের সিন্ডিকেট পুরো প্রক্রিয়াকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান সরকার সেই দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে এবং খুব দ্রুতই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে মালয়েশিয়ায় দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানি শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়