আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্ব মানচিত্রে আসছে বদল, বাড়ছে আফ্রিকা

জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্ব মানচিত্রে আসছে বদল, বাড়ছে আফ্রিকা

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্রে আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের আয়তন যেভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হয়ে আসছে, তা সংশোধন করে পৃথিবীর ভূখণ্ডগুলোর তুলনামূলক আকার আরও যথাযথভাবে তুলে ধরার উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। 

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কারেক্ট দ্য ম্যাপ: রিব্যালান্সিং গ্লোবাল কার্টোগ্রাফিক রিপ্রেজেন্টেশন অ্যান্ড প্রোমোটিং ইকুইটেবল রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য ওয়ার্ল্ডস রিজিয়নস, পার্টিকুলারলি আফ্রিকা শীর্ষক প্রস্তাবটি ১৬৪ ভোটে অনুমোদিত হয়। 

ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকলেও এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র। টোগোর নেতৃত্বে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলো ও বাহামাস প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। প্রস্তাবটির লক্ষ্য কোনো একটি মানচিত্রকে অন্য সব মানচিত্রের বিকল্প হিসেবে বাধ্যতামূলক করা নয়; বরং শিক্ষা, প্রকাশনা, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে এমন কার্টোগ্রাফিক প্রজেকশন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃত আয়তনের তুলনামূলক চিত্র আরও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তকে আফ্রিকার ভূখণ্ডের দীর্ঘদিনের বিকৃত উপস্থাপনা সংশোধনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেন পুরোনো মানচিত্র নিয়ে এত বিতর্ক

বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত মানচিত্র প্রজেকশনগুলোর একটি হলো মারকেটর প্রজেকশন। ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর ১৫৬৯ সালে এটি তৈরি করেন। সমুদ্রপথে নেভিগেশনের জন্য প্রজেকশনটি অত্যন্ত কার্যকর ছিল, কারণ এতে মানচিত্রে নির্দিষ্ট দিকের রেখাগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা যায়, যা নাবিকদের দিকনির্ণয়ে সহায়তা করত। কিন্তু পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল মানচিত্রে দেখানোর সময় এই প্রজেকশনে ভূমির আয়তনের বড় ধরনের বিকৃতি ঘটে। বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চল তুলনামূলক ছোট এবং মেরুর দিকে থাকা অঞ্চল অনেক বড় দেখায়। ফলে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও গ্রিনল্যান্ডের মতো উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড বাস্তবের তুলনায় বড় মনে হয়। 

বিপরীতে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার মতো অঞ্চলকে তুলনামূলক ছোট দেখায়। গ্রিনল্যান্ডের উদাহরণটি এই বিকৃতির সবচেয়ে পরিচিত দৃষ্টান্ত। প্রচলিত মারকেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার কাছাকাছি আয়তনের মনে হলেও বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।

তবে মানচিত্রের এই বৈশিষ্ট্যকে সরলভাবে ভুল মানচিত্র বলা যথাযথ নয়। পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল কাগজে সম্পূর্ণ বিকৃতিহীনভাবে দেখানো সম্ভব নয়; যেকোনো প্রজেকশনেই আয়তন, আকৃতি, দূরত্ব বা দিকের কিছু না কিছু আপস করতে হয়। মারকেটর প্রজেকশনের প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো, এটি আয়তনের তুলনামূলক অনুপাতকে অগ্রাধিকার দেয় না। নেভিগেশনের প্রয়োজনে তৈরি হওয়া এই প্রজেকশন পরে শিক্ষা, সংবাদমাধ্যম, প্রকাশনা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানচিত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ফলে একটি নির্দিষ্ট ধরনের ভৌগোলিক উপস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চোখে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

মানচিত্রের বিকৃতি কি রাজনৈতিক ধারণাকেও প্রভাবিত করে

কারেক্ট দ্য ম্যাপ উদ্যোগের সমর্থকদের যুক্তি, মানচিত্রের বিকৃতি কেবল কার্টোগ্রাফির কারিগরি সমস্যা নয়; এটি মানুষের বিশ্ব-ধারণাকেও প্রভাবিত করতে পারে। কোনো অঞ্চলকে দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক ছোট করে দেখানো হলে তার ভূখণ্ড, জনসংখ্যা, সম্পদ, অবকাঠামোর প্রয়োজন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের ধারণায় পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে। 

জাতিসংঘের প্রস্তাবেও বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলের অসমানুপাতিক উপস্থাপনা মানুষের সমষ্টিগত কল্পনায় আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের একটি প্রতীকী খাটো করে দেখানো বা symbolic minimization তৈরি করতে পারে। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, তুলনামূলক আয়তনের আরও সঠিক উপস্থাপনা এই দীর্ঘদিনের ধারণাগত ভারসাম্যহীনতা কমাতে সহায়ক হবে।

আফ্রিকার পক্ষে প্রচারাভিযানের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোও বিষয়টিকে শুধু মানচিত্রের নকশা পরিবর্তনের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে না। তাদের মতে, আফ্রিকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ এবং আয়তনে ইউরোপের প্রায় তিন গুণ। অথচ প্রচলিত মানচিত্রে ইউরোপ ও আফ্রিকার দৃশ্যমান আকারের পার্থক্য বাস্তব অনুপাতের তুলনায় অনেক কম মনে হয়। এই ধরনের উপস্থাপনা আফ্রিকার বিপুল ভূখণ্ড, প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যা ও উন্নয়নের সম্ভাবনাকে মানুষের চোখে তুলনামূলকভাবে ছোট করে তুলতে পারে এমন যুক্তিই সামনে এনেছে উদ্যোগটির সমর্থকেরা। তবে মানচিত্রের বিকৃতি সরাসরি কোনো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা বিনিয়োগ প্রবাহ নির্ধারণ করে, এমন দাবির পক্ষে সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিতর্কটি মূলত ভৌগোলিক উপস্থাপনা, মানুষের ধারণা এবং ঐতিহাসিক ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে।

আরও পড়ুন: সৌদির কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

বিকল্প হিসেবে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন

মারকেটর প্রজেকশনের আয়তনগত সীমাবদ্ধতা কমাতে ২০১৮ সালে মানচিত্রবিদ টম প্যাটারসন, বার্নহার্ড জেন্নি ও বোয়ান সাভরিচ ইকুয়াল আর্থ নামে একটি নতুন প্রজেকশন তৈরি করেন। এটি একটি সমানুপাতিক আয়তনভিত্তিক (equal-area) প্রজেকশন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ও মহাদেশের তুলনামূলক আয়তন যথাসম্ভব সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এর ফলে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়ার মতো অঞ্চলকে প্রচলিত মারকেটর মানচিত্রের তুলনায় বড় দেখা যায়। 

বিপরীতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড তুলনামূলক ছোট হয়ে আসে। গ্রিনল্যান্ডও এতে বাস্তব আয়তনের কাছাকাছি অনুপাতে দেখা যায়। তবে ইকুয়াল আর্থও পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠের একটি সমতল উপস্থাপনা; তাই এতে আকৃতি ও দূরত্বের কিছু বিকৃতি থাকবেই। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আয়তনের তুলনামূলক অনুপাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

আফ্রিকান ইউনিয়নও এই ধরনের মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে কারেক্ট দ্য ম্যাপ অব আফ্রিকা উদ্যোগটি অনুমোদিত হয়। পরবর্তী সময়ে টোগো আফ্রিকান গ্রুপের পক্ষে জাতিসংঘে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। আফ্রিকান ইউনিয়নের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আফ্রিকার ভূখণ্ডকে তার প্রকৃত আয়তন, বৈশ্বিক অবদান ও সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।

টোগোর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ

প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসেই। ভোটের আগে তিনি বলেন, ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, মানচিত্র কেবল ভৌগোলিক তথ্যের চিত্র নয়; এটি মানুষের কল্পনাশক্তিতে প্রভাব ফেলে এবং বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের মানসিক ধারণাকে গড়ে তোলে। আফ্রিকার ভূখণ্ডকে দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে ছোট করে দেখানো হয়েছে এই ধারণার পরিবর্তন ঘটাতে কার্টোগ্রাফিক উপস্থাপনায় ভারসাম্য আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

আফ্রিকান ইউনিয়নের কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফও প্রস্তাবটি অনুমোদনের পর স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১৬ শতকে মূলত নেভিগেশনের জন্য তৈরি মারকেটর প্রজেকশন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনামূলক আয়তন সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না এবং আফ্রিকার প্রকৃত আকারকে উল্লেখযোগ্যভাবে খাটো করে দেখায়। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ শুধু মানচিত্র সংশোধনের বিষয় নয়; এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতার ভিত্তিতে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা, ফ্রান্সসহ অধিকাংশ দেশের সমর্থন

ভোটের আগে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসভিচ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে সাধারণ পরিষদ ১৬ শতকের মানচিত্র এবং কগনিটিভ জাস্টিস বা বোধগত ন্যায়বিচারের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। 

তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রই প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেওয়া একমাত্র দেশ।

অন্যদিকে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে। ফ্রান্সও মারকেটর প্রজেকশনের বদলে ভূমির প্রকৃত আয়তন আরও সঠিকভাবে তুলে ধরে এমন মানচিত্র ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। 

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, মানচিত্র পরিবর্তন করলে বিশ্ব বদলে যায় না। তবে বিশ্বকে যে উপস্থাপনাটি বিকৃত করে, সেটি সংশোধন করা সত্যের পক্ষে একটি পদক্ষেপ।

ডিজিটাল মানচিত্রেও পরিবর্তনের আহ্বান

মারকেটর প্রজেকশনের ব্যবহার শুধু কাগজের মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। গুগল ম্যাপসের মতো ডিজিটাল মানচিত্র প্ল্যাটফর্মও এর একটি সংস্করণ ব্যবহার করে। তবে এই ধরনের ওয়েব ম্যাপিংয়ে সাধারণত নেভিগেশন, দিকনির্ণয় ও দূরত্ব পরিমাপের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে আয়তনভিত্তিক তুলনা দেখানোর জন্য ব্যবহৃত মানচিত্র এবং নেভিগেশনের জন্য ব্যবহৃত মানচিত্রের উদ্দেশ্য এক নয়। জাতিসংঘের নতুন প্রস্তাবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সদস্যরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আরও সঠিক প্রজেকশন গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর অর্থ হলো, শিক্ষা, তথ্যচিত্র, প্রকাশনা ও সাধারণ ভৌগোলিক উপস্থাপনায় আয়তনভিত্তিক মানচিত্র ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো; নেভিগেশনের জন্য ব্যবহৃত সব মানচিত্র অবিলম্বে বদলে ফেলা নয়।

এর আগে, নিউজিল্যান্ডও মারকেটর মানচিত্রের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিষয়টি সামনে এনেছিল। ২০১৮ সালে দেশটির একটি পর্যটন বিজ্ঞাপনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নকে দেখিয়ে বলা হয়েছিল, বিশ্বের মানচিত্রের নিচের ডান কোণে অবস্থানের কারণে নিউজিল্যান্ড মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এই প্রচারণার মাধ্যমে দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান ও মানচিত্রে দৃশ্যমানতার বিষয়টি মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়।

প্রস্তাবের বাস্তব প্রভাব কতটা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবটি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে কোনো দেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রকাশনা সংস্থা বা প্রযুক্তি কোম্পানি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মারকেটর প্রজেকশন বাদ দিয়ে নতুন মানচিত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হবে না। তবে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন এই উদ্যোগকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও গ্রহণযোগ্যতা দিতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা, প্রকাশনা, সংবাদমাধ্যম, সরকারি তথ্যচিত্র ও ডিজিটাল মানচিত্রে আয়তনভিত্তিক প্রজেকশন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে। 

আফ্রিকান ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা টোগো, সদস্যরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে উদ্যোগটির বাস্তবায়ন ও প্রসারে সহায়তা করবে।

বিশ্ব মানচিত্রে কোনো পরিবর্তনই পৃথিবীর বাস্তব ভৌগোলিক অবস্থান বদলে দেয় না। তবে মানুষ পৃথিবীকে কীভাবে দেখে, কোন অঞ্চলকে কতটা বড় বা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং বিশ্ব সম্পর্কে তাদের ধারণা কীভাবে গড়ে ওঠে সেই প্রক্রিয়ায় মানচিত্রের ভূমিকা রয়েছে। জাতিসংঘের এই ভোটের মধ্য দিয়ে আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন ও তুলনামূলক ভূখণ্ডগত অবস্থান আরও যথাযথভাবে উপস্থাপনের দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন গুরুত্ব পেল। এখন এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হয়, তা নির্ভর করবে দেশগুলোর নীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, প্রকাশনা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়