নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩০, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন, দেশের বাজারে বৃদ্ধি

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন, দেশের বাজারে বৃদ্ধি

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের অপ্রত্যাশিত ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ডেটা প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে মূল্যবান ধাতু বিশেষ করে স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) চলতি মাসেই সুদের হার বাড়িয়ে দিতে পারে এমন জোরালো আশঙ্কার কারণেই মূলত বৈশ্বিক বাজারে এই ধস নেমেছে। 

শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

রয়টার্সের বাজার বিশ্লেষণে প্রকাশ, গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১৯ দশমিক ০৯ ডলারে এসে ঠেকেছে। মার্কিন কর্মসংস্থানের নতুন তথ্য প্রকাশের পরপরই তীব্র বিক্রয়চাপের মুখে লেনদেনের একপর্যায়ে স্বর্ণের দাম দুই শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৪ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে আসে, যা চলতি সপ্তাহের পুরো সময়জুড়ে স্বর্ণের বাজারে সবচেয়ে বড় পতনের রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। 

একইসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির গোল্ড ফিউচার ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৬০ ডলারে এর লেনদেন সম্পন্ন করেছে।

মার্কিন সরকারের প্রকাশিত শ্রমবাজারের নতুন উপাত্ত অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটিতে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং বেকারত্বের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে স্থিতিশীল রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এমন সুদৃঢ় অবস্থানের ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের জন্য সুদের হার আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রধান বাধাগুলো দূর হয়ে গেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণত সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী হলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের প্রতি ঝোঁক কমিয়ে ব্যাংকে অর্থ সঞ্চয় করা কিংবা পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করাকে অনেক বেশি লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। আর এ কারণেই কোনো ধরনের লভ্যাংশ বা সুদ প্রদান না করায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের আকর্ষণ ও চাহিদা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: তিন দফা কমার পর আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক এই পতনের ঢেউ কেবল স্বর্ণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। বিশ্ববাজারে রুপার স্পট মূল্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমে এসেছে। এর পাশাপাশি রূপালী ও শিল্পে ব্যবহৃত অন্যান্য দামি ধাতু যেমন প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামেও এক ধাক্কায় বেশ বড় ধরনের পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। 

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভোক্তা মূল্যসূচক তথা জিনিসপত্রের দাম বাড়ার বা কমার সর্বশেষ হিসাব প্রকাশিত হলে বৈশ্বিক মূল্যবান ধাতুর বাজার ভবিষ্যতে কোন গতিপথ অনুসরণ করবে, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।

এদিকে বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী ধারার উল্টো চিত্র দেখা গেছে দেশের অভ্যন্তরীণ সোনার বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারের ধসের খবরের মাঝেই দেশের বাজারে টানা তিন দফা কমার পর পুনরায় বড় ব্যবধানে বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম। 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। 

নতুন এই মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। এর আগে এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা।

তাছাড়া স্থানীয় বাজারে অন্যান্য গ্রেডের সোনার দামও নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্ববাজারের মন্দা ভাবের বিপরীতে স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অলংকার কেনার প্রবণতা কিছুটা শ্লথ হতে পারে বলে মনে করছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়