আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:০২, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২২

কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২২

ছবি: সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। 

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এএফপি এবং কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানী কিনশাসার উত্তরাঞ্চলীয় ঘনবসতিপূর্ণ লিংওয়ালা এলাকার একটি ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আনন্দঘন একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ আগুন লাগার কারণে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে শনিবার ভোর পর্যন্ত অবিরাম জ্বলতে থাকে। ভবনটির ভেতরে থাকা সরু করিডোর এবং সীমিত ও অপ্রতুল যাতায়াতের পথের কারণে আতঙ্কিত লোকজন দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে গিয়ে প্রচণ্ড ভিড় ও হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়েন। এর ফলে অনেকেই ভেতরে আটকা পড়ে করুণ পরিস্থিতির শিকার হন। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেঁচে যাওয়া লোকজন ও স্বজনেরা সাহসিকতার সাথে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। এ সময় হতাহতদের উদ্ধার করে সড়কের পাশে সারি করে শুইয়ে রাখতে দেখা যায়, যা এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করে।

আরও পড়ুন: ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ১০, আহত ৬

লিংওয়ালা এলাকার মেয়র নরবার্ট মুশিঙ্গা কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সিকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ডে নিহত মানুষের সংখ্যা অন্তত ২২ জন। তবে উদ্ধারকাজ ও মরদেহ শনাক্তকরণ কার্যক্রম চলমান থাকায় এবং অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

এদিকে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহতদের তালিকায় কঙ্গোর জাতীয় রেডিও ও টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান গাই কিতোকো আলোমাওয়ের নামও রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। আকস্মিক এই প্রাণহানির ঘটনায় পুরো কিনশাসাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা না গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক গোলযোগ অথবা অনুষ্ঠানস্থলের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা বা ডেকোরেশনের কোনো ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

ঘটনার পরপরই শনিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কঙ্গোর উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকমিন শাবানি দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি এই ভয়াবহ ঘটনাটিকে একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি হিসেবে অভিহিত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করেন।

কিনশাসার মতো জনবহুল ও দ্রুত বর্ধনশীল নগরীগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অগ্নিনির্বাপক সেবাসহ জরুরি পরিষেবাগুলোর মারাত্মক ঘাটতির বিষয়টি এই দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও তীব্রভাবে সামনে এসেছে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে কঙ্গোর রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং চলতি বছরও শহরটিতে বেশ কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং কঠোর সুরক্ষা বিধানের অনুপস্থিতির কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনাগুলো সহজেই ভয়াবহ রূপ লাভ করে এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়