আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৩২, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন হামলায় ওমান উপসাগরে ডুবল ইরানি ট্যাংকার

মার্কিন হামলায় ওমান উপসাগরে ডুবল ইরানি ট্যাংকার

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যর ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে ইরানের একটি বিশালাকৃতির তেলবাহী ট্যাংকার এম/টি কায়লো। 

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) কায়লোসহ ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারের বহরে এই ধ্বংসাত্মক হামলা চালায় মার্কিন সেনারা। 

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড করপস (আইআরজিসি) মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক হামলা চালানোর প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ওমান উপসাগরের বুকে ইরানি ট্যাংকারটি ডুবে যাওয়ার একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ড (সেন্টকম)। 

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রকাশিত ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মার্কিন হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রকাণ্ড ট্যাংকারটি ধীরে ধীরে সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ব্যঙ্গাত্মক ও কঠোর বিবৃতিতে সেন্টকম দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিখুঁততার ফলেই এম/টি কায়লো ওমান উপসাগরের তলদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং এটি পূর্বে ধ্বংস হওয়া ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজের সঙ্গেই সমুদ্রের নিচে যুক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ১০, আহত ৬

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা সেই তীব্র লড়াইয়ের পর থেকেই ওয়াশিংটন ও পেন্টাগন দাবি করে আসছে যে, তারা ইরানের নৌবাহিনীকে কার্যত পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে এবং দেশটির অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজ ও নৌবহর ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। সেন্টকমের সাম্প্রতিক এই বিবৃতিতে মূলত সেই পুরোনো দাবিরই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান নৌ-যুদ্ধের ভয়াবহতাকেই ফুটিয়ে তোলে। 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালির বাণিজ্য রুটে আধিপত্য বিস্তার এবং ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মার্কিন কৌশলেরই একটি অংশ হলো এই ধারাবাহিক ট্যাংকার ধ্বংসের অভিযান।

এদিকে, মার্কিন বাহিনীর এই আগ্রাসী হামলার কঠোর জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের তেলবাহী ট্যাংকার ও নৌবহরে হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে আঘাত হানাহানি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ও অনুমোদিত সামুদ্রিক রুটের বাইরে চলাচল করার অভিযোগে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালিতে আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজেও সফল হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিপ্লবী গার্ড। তবে মার্কিন সামরিক বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইরানের এই পাল্টা হামলার দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বিরত রয়েছে।

কাতারে অবস্থিত সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের বা সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নজিরবিহীনভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। একদিকে মার্কিন প্রশাসন ইরানের তেল অর্থনীতি ও রপ্তানিকে পঙ্গু করতে তাদের অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামুদ্রিক ব্লকেড জোরদার করেছে, অন্যদিকে ইরানও কৌশলগত জলসীমায় নিজেদের সামর্থ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এম/টি কায়লো ট্যাংকার ডুবির এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়