নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:১৭, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতারণার মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন বিদিশা

প্রতারণার মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন বিদিশা

ছবি: সংগৃহীত

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক ফ্ল্যাট বিক্রি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের একটি প্রতারণার মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেছেন। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আইনগত আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট আইজীবীরা।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান এবং মো. মাসুদ মিয়া।

এর আগে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ফ্ল্যাট আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটিতে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। তবে রায়ের সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে গত ২৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন ২৬ আগস্ট তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তার জামিন আবেদন খারিজ করলে তার আইনজীবীরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। অবশেষে উচ্চ আদালত থেকে জামিন মেলায় কারামুক্তির পথ সুগম হলো।

আরও পড়ুন: বিদিশার সাজা বাতিল চেয়ে আপিল, জামিন নামঞ্জুর

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০০১ সালে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে মোট ৮০ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন বাদী।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে বিদিশার কথামমত তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আবদুল রাজ্জাকের নামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয় এবং ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিদিশা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেননি। পরবর্তীতে বাদী ফ্ল্যাটের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করা হয়। কিন্তু ব্যাংকে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় চেকটি ডিজঅনার বা প্রত্যাখ্যাত হয়। 

বাদীর অভিযোগ, টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনটিই না দিয়ে উল্টো তাকে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশক ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের সর্বশেষ ধাপে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন বিদিশা সিদ্দিক।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়