নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২৪, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৯

ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৯

ফাইল ছবি

দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর নতুন রেকর্ড। একই সময়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ জন, যা দৈনিক রোগী ভর্তির দিক থেকেও এ বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যা। 

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগের দিন ৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল। নতুন এই রেকর্ড ডেঙ্গু সংক্রমণের গ্রাফকে আরও ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে এবং চিকিৎসাব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪২ হাজার ১২৭ জন এবং বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ হাজার ২১৮ জন ডেঙ্গু রোগী। 

মাসভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ১৩০ জনের মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনেই মারা গেছেন ৩৩ জন। 

বছরের অন্যান্য মাসের মধ্যে জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১, জুনে ১৩ এবং জুলাই মাসে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিগত বছরগুলোর মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন আক্রান্ত এবং ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃতের সংখ্যা ছিল ৫৭৫ জন।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৩১৪

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানী ঢাকায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ জন, খুলনা বিভাগের ২ জন এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১ জন করে রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। 

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৯৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এলাকায় ১৩৪ জন এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভিন্ন জেলায় ৪০৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনায় ২৪২ জন, চট্টগ্রামে ১৭৭ জন, বরিশালে ১৪২ জন, রাজশাহীতে ১১৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৭ জন, রংপুরে ৭১ জন এবং সিলেটে ৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এডিস মশাবাহিত এই রোগের এমন আকস্মিক বৃদ্ধিতে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও দীর্ঘায়িত ও তীব্র হতে পারে যদি কার্যকরভাবে মশা নিধন এবং প্রজননস্থল ধ্বংস করা না হয়। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর কমার পরবর্তী সময়টি ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই শরীরের তাপমাত্রা কমার পরও যদি তীব্র পেটে ব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি কিংবা রক্তক্ষরণের মতো কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো মশা নিধন অভিযান পরিচালনা না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়