২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৩১৪
ফাইল ছবি
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও এর কারণে প্রাণহানির হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত তথ্যউপাত্ত অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩১৪ জন রোগী। এর মাধ্যমে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি এক মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে, যা স্বাস্থ্য খাতকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
নতুন আক্রান্তদের নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৯০৪ জনে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টার চারজনসহ চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১২১ জনে।
মৃতদের মধ্যে পুরুষ ও নারীর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর মধ্যে ৬ জন নারী এবং ৫৩ জন পুরুষ রয়েছেন। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসের মাত্র ৭ দিনেই ২৪ জন ডেঙ্গুর শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, যা দৈনিক গড় মৃত্যুর হারকে আগের মাসগুলোর তুলনায় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত চারজনের মধ্যে খুলনা বিভাগে দুজন এবং ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন করে মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে তিনজন নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। এ সময়ে নতুন আক্রান্ত ১৩১৪ জন রোগীর মধ্যে ৮৫১ জন পুরুষ এবং ৪৬৩ জন নারী, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে আক্রান্তের ক্ষেত্রে পুরুষদের হার তুলনামূলক বেশি।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৮৮
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় অঞ্চলে ডেঙ্গুর বিস্তার এখন সর্বব্যাপী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ১৩৯ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ১৪৩ জন এবং দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগে ২২৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য বিভাগগুলোর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৫ জন, খুলনায় ২৩৫ জন, ময়মনসিংহে ৮১ জন, রংপুরে ৩৬ জন, রাজশাহীতে ৯৯ জন এবং সিলেটে ৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চলতি বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪৩ হাজার ৯০৪ জন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪০ হাজার ৭০৯ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হাজারো ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব রাখা শুরু হয়। এর মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল ২০২৩ সাল, যে বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং প্রাণ হারিয়ছিল রেকর্ড ১ হাজার ৭০৫ জন। এর আগের বছরগুলোতেও ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দেখা গেছে; যেমন গত বছর (২০২৫ সালে) ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা না হলে চলতি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর এই প্রকোপ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








