নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০২, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন: হাসিনা

আমার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন: হাসিনা

ফাইল ছবি

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজেই।

তিনি বলেন, “এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।”

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল এর এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।

দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ রেহানার সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা শেখ হাসিনা কার্যত নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন, “রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।”

এরপরই দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নে নিজের আপন ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম বলেন শেখ হাসিনা।

তবে আওয়ামী লীগের সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা তাদের দলীয় সভাপতির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের আপত্তির কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন।

তাদের একজন বলেছেন, “শেখ সেলিমের বাসায় বিভিন্ন সময়ে দলীয় বৈঠকে যেসব আলোচনা হয়, তা খুব দ্রুতই বাইরে চলে যায়।”

শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ যেসব অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন আরেকজন আওয়ামী লীগ নেতা।

শেখ সেলিমের বড় ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম বিয়ে করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বোন ন্যান্সি জাহারাকে।

আর শেখ সেলিমের ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈমের বিয়ে হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মেয়ে সারাহ হাসিন মাহমুদের সঙ্গে।

আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনার কথা শেখ হাসিনা আগেই বলেছিলেন। দ্য ওয়ালের সাক্ষাৎকারেও তিনি একই কথা বলেছেন।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না। আবার দেশে ফিরলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার কথাও তিনি বলেছেন।

শেখ হাসিনার বলেন, “আমি ফিরলে এয়ারপোর্টেও আমাকে হত্যা করতে পারে।”

আরও পড়ুন: সাইফুর রহমানের অবদান ও মৃত্যু রহস্য উন্মোচনের দাবি রিজভীর

দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

তিনি বলেন, “প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।”

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে এবং এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।”

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।”

বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।”

তবে একই সঙ্গে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তিনি বলেন।

দেশের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

শেখ হাসিনার অবর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। 

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়