নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৩৩, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ১৭:৩৫, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী-বন্ধন-মিতালী চালুতে ইতিবাচক বাংলাদেশ-ভারত’

‘যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী-বন্ধন-মিতালী চালুতে ইতিবাচক বাংলাদেশ-ভারত’

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল খুব দ্রুতই পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় রেল যোগাযোগ চালুর বিষয়টি এখন সবার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট নীতির্ধারকরা অত্যন্ত আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। 

বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দুই দেশের স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে যৌথভাবে কাজ করার পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাৎ শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের জানান, মৈত্রী এক্সপ্রেসসহ বন্ধ থাকা যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়ে খুব শিগগিরই ভালো সংবাদ আসছে এবং এর দিনক্ষণও দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ট্রেনের যাত্রার সময় কমানোর বিষয়েও উভয় দেশ গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে। এছাড়া, নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক কমার বদলে বরং দ্বিগুণ হয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তবে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যক্রম সংক্রান্ত সাংবাদিকদের একটি রাজনৈতিক প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান ভারতীয় হাইকমিশনার।

আরও পড়ুন: ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু: বিমানমন্ত্রী

যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনার জন্য ঢাকায় দুই দিনব্যাপী আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকে মৈত্রী এক্সপ্রেস (ঢাকা-কলকাতা), বন্ধন এক্সপ্রেস (খুলনা-কলকাতা) এবং মিতালী এক্সপ্রেস (ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি) এই তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দুই পক্ষের সম্মতিক্রমে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাসেই ট্রেনগুলো পুনরায় চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে নিরাপত্তা জনিত কারণে এবং পরবর্তীতে দুই দেশের ভ্রমণ ভিসায় কড়াকড়ির কারণে গত জুলাই মাস থেকে ট্রেনগুলোর চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশই ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে শুরু করে, যা ট্রেন চালুর পথকে ত্বরান্বিত করেছে।

আসন্ন রেলওয়ে বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কৌশলগত ও যুগোপযোগী প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে:

পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী চলাচল: এতদিন ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করলেও, সময় ও দূরত্ব কমাতে ট্রেনটি নবনির্মিত পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর জোরালো প্রস্তাব থাকছে। এর ফলে ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

রাজশাহী-কলকাতা নতুন রুট: দুই দেশের যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করতে রাজশাহীকে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত করে নতুন একটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

পার্সেল পরিবহন ও সময়সূচি: বর্তমান শুধু দিনের বেলার পাশাপাশি রাতে ট্রেন পরিচালনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা এবং যাত্রীবাহী কোচের সঙ্গে পার্সেল বুকিংয়ের জন্য আলাদা কোচ সংযোজনের প্রস্তাবও টেবিলে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর এই ট্রেনগুলো পুনরায় চালু হলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পর্যটন ও আস্থার সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়