নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:২৭, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘কোম্পানি আইন সংশোধনে ব্যবসায়ীদের মতামতই অগ্রাধিকার’

‘কোম্পানি আইন সংশোধনে ব্যবসায়ীদের মতামতই অগ্রাধিকার’

ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে সরকার কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো না করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও মতামতের ভিত্তিতেই আইনটি চূড়ান্ত করবে।

সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) কার্যালয়ে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (তৃতীয় সংশোধন-২০২৬)-এর খসড়া নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন ও বিভিন্ন শিল্প খাতের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় খসড়া সংশোধনী প্রস্তাবটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। এছাড়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), এপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বারবিডার সভাপতি আবদুল হক এবং ট্রান্সকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা।

বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, এই আইনটি মূলত ব্যবহার করবেন দেশের ব্যবসায়ীরাই। তাই তাদের দৈনন্দিন ব্যবসায়িক প্রয়োজন, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই আইনটিকে যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। ১৯৯৪ সালে কোম্পানি আইন প্রণীত হওয়ার পর দীর্ঘ সময়ে এর বড় ধরনের কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি। অথচ এর মধ্যে ব্যবসা পরিচালনার ধরন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ কাঠামো এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাই বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনটিকে আধুনিক করা এখন সময়ের দাবি।

আইন পর্যালোচনার সময়সীমা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খসড়া সংশোধনীটি গভীরভাবে অধ্যয়ন করে সুচিন্তিত মতামত দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রাথমিকভাবে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে এই সময় আরও বাড়ানো হবে। 

আরও পড়ুন: উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০ কোটি টাকার পাইলট প্রকল্প

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের ৩০ দিন সময় লাগলে ৩০ দিন নিন, ৬০ দিন লাগলে ৬০ দিন নিন; কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনগুলোর সঙ্গে তুলনা করে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রস্তাব নিয়ে আসুন। যাতে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। তিনি বিশ্বের অন্যান্য উন্নত ও সহজ ব্যবসা পরিচালিত দেশের সফল অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপরও জোর দেন।

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি আইন সংস্কার বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংস্কারেরই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 

দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ব্যবসার পরিবেশ যত সহজ করা যাবে, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ তত বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। বর্তমান রূপান্তরকালীন সময়ে সরকার ও বেসরকারি খাতকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ধৈর্য ও দূরদর্শিতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ (বিএসইসি) বিভিন্ন খাতের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিএসইসির পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে নিজস্ব শেয়ার কেনার বা শেয়ার বাইব্যাক-এর সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে তা প্রকাশের ব্যবস্থা করা এবং আইনের প্রচলিত পরিভাষায় ব্যালান্স শিট-এর পরিবর্তে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী ও বোর্ড রিপোর্টের পরিবর্তে অ্যানুয়াল রিপোর্ট শব্দগুলো যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) সময়সূচি নতুন অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বয় এবং কোম্পানি গ্রুপের সংজ্ঞা স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়।

সভায় সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো উপস্থিত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের সুনির্দিষ্ট ও লিখিত সুপারিশমালা জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব সুপারিশ খতিয়ে দেখে এক মাসের মধ্যে সংশোধিত খসড়ার পরবর্তী রূপ প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়