স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:১৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ০৮:২৬, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট আ. লীগের অদূরদর্শী নীতির ফল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট আ. লীগের অদূরদর্শী নীতির ফল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশে বর্তমানে যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, তার জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আত্মঘাতী নীতি, অদূরদর্শিতা এবং দলীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষাকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের অনুগত ব্যবসায়ীদের লালন-পালন করতে গিয়ে বিদেশ নির্ভর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছিল। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধানেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর ফলে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। পরে সীমান্তে পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছে।

এলএনজি ঘাটতি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়িতে চীনের সঙ্গে জি টু জি চুক্তির আওতায় তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এটি ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নির্মাণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশীয় কয়লা ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়ার কয়লা ব্যবহার করে ৬০০ মেগাওয়াটের নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়াতেও সংস্কারকাজ চলছে। পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন অনশোর ও অফশোরে নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধানে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উভয় ক্ষেত্রেই অনুসন্ধান ও কূপ খনন জোরদার করেছে। ভোলায় গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে পাওয়া গ্যাস ব্যবহার করে সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এলপিজির চাহিদা মেটাতে মাতারবাড়িতে বড় পরিসরে এলপিজি টার্মিনাল ও স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস খালাস নিশ্চিত করতে ভাসমান সিবিএস প্রযুক্তির টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়েও একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি ভঙ্গুর আর্থিক ও জ্বালানি ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার পর সবকিছু রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের নেওয়া স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানো নয়; কয়লা, বায়ু, সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দুর্যোগসহনশীল জ্বালানি খাত গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় আসছে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও কিউআর কোড

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার প্রতিটি সমস্যার টেকসই সমাধানে কাজ করছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়