News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫০, ৩ এপ্রিল ২০২৬

হামের ঝুঁকিতে দেশ, স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

হামের ঝুঁকিতে দেশ, স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

ফাইল ছবি

দেশে আশঙ্কাজনক হারে হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সকল চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতেও একই তথ্য পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, আপদকালীন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এর অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত বা বাতিল থাকবে। ফলে জরুরি দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিশুদের মধ্যে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর সে কারণেই স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে।

আরও পড়ুন: ৫৬ জেলায় হামের বিস্তার, আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

এদিকে, দেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দেশের ৫৬টি জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রাঙামাটি, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও বান্দরবান জেলায় এখনো হাম শনাক্ত হয়নি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ১৯০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে হামের ভাইরাস নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৯ জন এবং নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫৮৫ জন। একই সময়ে নতুন ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৬৩ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৩০ জন।

শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় (১ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৮৫ জন এবং নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছেন ২৬ জন। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট হিসেবে ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে ১৩ জন এবং সন্দেহজনক হামে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটায় বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৯ শতাংশই দুই বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমানে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ দশমিক ৮, যা দেশব্যাপী বিস্তারের ইঙ্গিত বহন করে। যদিও ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভিড় বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংক্রমণ আরও বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়