অসুস্থ শিশুদের হামের টিকা না দেওয়ার পরামর্শ
ফাইল ছবি
সারাদেশে জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলার (এমআর) বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। তবে এই কর্মসূচিতে যেসব শিশুর বর্তমানে জ্বর রয়েছে কিংবা যারা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছে, তাদের এই মুহূর্তে টিকা না দেওয়ার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
চিকিৎসকদের মতে, অসুস্থ অবস্থায় টিকা প্রদান করলে শিশুর শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে, তাই শিশু পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পরই কেবল এই টিকা দেওয়া নিরাপদ।
শনিবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব তথ্য জানান।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, অসুস্থতার কারণে যারা প্রাথমিক পর্যায়ে টিকা নিতে পারবে না, তাদের সুস্থ হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে টিকার আওতায় আনা হবে। এছাড়া টিকা দেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের রোগের জটিলতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে, তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে টিকার বাইরে অতিরিক্ত কোনো ওষুধ প্রয়োজন হবে না।
কর্মসূচির বিস্তারিত ও লক্ষ্যমাত্রা আগামীকাল রবিবার (০৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে নির্ধারিত ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এই টিকাদান কার্যক্রম একযোগে শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী (৫ বছরের কম) শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই টিকা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই এই বয়সসীমার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগের টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক, নির্দিষ্ট বয়সসীমার সকল শিশুকে পুনরায় এই টিকা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র ছাড়াও স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার ও স্থানীয় নির্ধারিত স্থানে এই কার্যক্রম চলবে।
আরও পড়ুন: ‘হাম করোনার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়’
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এই জরুরি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অতীতের তদন্তে সময় নষ্ট না করে বর্তমানে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আগামী ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ কার্যক্রমের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত ৩০টি উপজেলা প্রথম ধাপে দেশের ১৮টি জেলার যে ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে সেগুলো হলো রাজশাহীর গোদাগাড়ী; ঢাকার নবাবগঞ্জ; মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ঝালকাঠির নলছিটি; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; নওগাঁর পোরশা; গাজীপুর সদর; নেত্রকোনার আটপাড়া; শরীয়তপুরের জাজিরা; বরগুনা সদর; মাদারীপুর সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট; নাটোর সদর এবং যশোর সদর।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যা জুলাই মাসের মধ্যে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। উদ্বোধনী দিনে পাঁচটি কেন্দ্রে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন এবং বাকিগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনরা দায়িত্ব পালন করবেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এস.এম জিয়াউদ্দিন, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








