দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার, ২২ দিনে মৃত্যু ১৩৮
ফাইল ছবি
দেশে হাম পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি হয়েছে। গত ২২ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত) ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং ১১৮ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ জন নিশ্চিত হাম রোগী এবং ৫ জন উপসর্গযুক্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশে হামের এই সর্বশেষ ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯ জনে। তবে একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮ হাজার ৫৩৪ জন। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে শনাক্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে।
বিগত ২৪ ঘণ্টার (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, একদিনেই দেশে ১ হাজার ২৮২ জন নতুন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮০ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে হামের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা গেছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৪৬২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘ফ্যাসিস্ট ও অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতিতে হামের প্রাদুর্ভাব’
দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিভাগে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৫২ জন, যাদের মধ্যে ৬১১ জনের ক্ষেত্রে রোগটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া ৫ জন সন্দেহভাজন রোগীর সবাই ঢাকা বিভাগের এবং জেলা হিসেবেও ঢাকাতেই সর্বোচ্চ মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫ হাজার ৯৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ১৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করছে। সংক্রমণের বিস্তার রোধে জনগণকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে টিকা নিশ্চিত করা এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তদারকি সেল গঠন করে কাজ করছে অধিদপ্তর।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








