‘হাম করোনার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়’
ছবি: সংগৃহীত
দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ৩ মে থেকে দেশের অবশিষ্ট সকল জেলা ও উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে প্রাথমিক পর্যায়ে আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান শুরু হবে।
রবিবার (০৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এবং পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বজ্রপাতের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়া’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, হামের বর্তমান ভয়াবহতা কোনো অংশেই করোনার চেয়ে কম নয়। বিগত সরকারের হেলাফেলার কারণেই আজ এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের তথ্যমতে, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হামের রোগীদের প্রায় ৮২ শতাংশই ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু। এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে আপাতত এই বয়সসীমার শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আজ থেকেই ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফ এই এলাকাগুলোকে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১২ এপ্রিল (রবিবার) থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। সবশেষে আগামী ৩ মে থেকে দেশের অবশিষ্ট সকল জেলা ও উপজেলায় একযোগে বড় পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, নির্ধারিত বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এই টিকা দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু
সংক্রমিত শিশুদের জটিলতা কমাতে টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যারা বর্তমানে আক্রান্ত, তাদের রোগের তীব্রতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ দেওয়া হবে এবং সুস্থ শিশুদের টিকার সঙ্গে এটি প্রদান করা হবে। এছাড়া গুরুতর রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনার সময় ব্যয় না হওয়া ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে হামের এই ভ্যাকসিন কেনা হচ্ছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী হামে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তারেক রহমানের নেতৃত্বে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সকল ঘাটতি পূরণ করে পদক্ষেপ নিচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে দেশের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা ও সচেতনতা প্রয়োজন।
আজ থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়া ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলার মধ্যে রয়েছে বরগুনা (সদর ও পৌরসভা), পাবনা (সদর, পৌরসভা, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, বেড়া), চাঁদপুর (সদর, পৌরসভা, হাইমচর), কক্সবাজার (মহেশখালী, রামু), গাজীপুর (সদর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (সদর, পৌরসভা, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট), নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা, শ্রীনগর), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশাল (মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ), নওগাঁ (পোরশা), যশোর (সদর ও পৌরসভা), নাটোর (সদর), মুন্সীগঞ্জ (সদর, পৌরসভা, লৌহজং), মাদারীপুর (সদর ও পৌরসভা), ঢাকা (নবাবগঞ্জ), ঝালকাঠি (নলছিটি) এবং শরীয়তপুর (জাজিরা)।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








