আশার আলো দেখিয়ে শেষ হলো গান মেলা
ঢাকা: ছোট্ট শিশু সানজিদা ইসলাম গানের তালে তালে নাচছিল। পাশে দাঁড়িয়ে অবাক দৃষ্টিতে মেয়ের নাচ দেখছিলেন বাবা-মা। এটি মেলায় আসা দেড় হাজার দর্শকের আনন্দের একটি খন্ডচিত্র। এমন চিত্র মেলার আয়োজকদের আশার আলো দেখিয়েছে।
১০ দিনব্যাপী মেলার শেষ দিন শিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক আর মিউজিক কোম্পানীর স্বত্বাধীকারীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল গান মেলা। মেলায় দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। মাঠের কোথাও বসে শিল্পী আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ বা আবার হাসি মুখে ছবি তুলে ভক্তের আব্দার মেটাচ্ছেন। শিল্পীদের অনেককেই দেখা যায় খুনসুটিতে মেতে উঠতে। সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ মেলা বলতে যা বোঝায় তার সবগুলো বৈশিষ্ট ছিল এতে।
আনন্দ, আড্ডা, খুনসুটির মধ্যেও শেষ দিনে মেলা শেষের আগে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন অনেকেই।
মেলার শেষ দিনে রংধনু এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন হয় নবীন শিল্পী শায়লা রহমানের। তিনি বলেন, “গান মেলার মতো এত বড় একটা মঞ্চে আমার এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন হবে, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। এমন মেলা আজকে শেষ হয়ে যাচ্ছে ভাবতেই খারাপ খারাপ লাগছে।”
বই মেলার মতো করে গান মেলা করার এই ধারনা আসে এনামুল হকের মাথা থেকে আসে। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মেলার ধরানার জন্য ক্রেস্ট প্রদান করা হয় তাকে।
মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের যুগ্মসচিব মো. জহিরুল ইসলাম শাহেদ বলেন, “এই প্রথমবারের মতো গান মেলার আয়োজন করা হলেও আমরা চাই প্রতি বছর মেলার আয়োজন করতে। কারণ এর মাধ্যমে শিল্পী-শ্রোতার মধ্যে সরাসরি মেল বন্ধনের এক অপূর্ব সুযোগ তৈরী হয়। শুধু তাই নয় মেলার মাধ্যমে শিল্পীরা উপকৃত হচ্ছে, তাদের সিডির বিক্রি বাড়ছে আর শ্রোতারাও তাদের প্রিয় শিল্পীদের সাথে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছে।”
মেলায় গান শুনে নাচছিলেন সুমন শাহ। তাকে গান কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, “প্রতিদিনই অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে এখানে এসে গান শুনে তারপর বাড়ি ফিরি। মেলা আরো কিছু দিন থাকলে ভালো হতো।”
মুগদার অধিবাসী মোজাম্মেল মুকুল তার প্রিয় শিল্পী আসিফকে সামনে থেকে দেখতে পেয়ে খুবই আনন্দিত। তার মতে, এমন আয়োজন আরও আগেই করা উচিত ছিলো। তবে দেরিতে হলেও শুরু যখন হয়েছে প্রতি বছর যেন মেলা হয়।
তবে আনন্দ উচ্ছাসে জমজমাট মেলায় ধুলাবালি নিয়ে অস্বস্থিতে ছিলেন দর্শক-শ্রোতারা। প্রতিদিন মেলার অনুষ্ঠানমালা আরো একটু আগে থেকে শুরু করলে ভালো হতো বলে মনে করেন মেলায় আগত দর্শক-শ্রোতারা।
গত ৯ এপ্রিল থেকে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী চলা এ গান মেলা রোববার পররাষ্ট্র প্রতীমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আগামী বছর পুরো এক মাসের জন্যে এ মেলা আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ।
সমাপনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ আব্দুল হাদী, ব্যান্ড সংগীত শিল্পী বিপ্লব, কবি আসাদ চৌধুরী, মাজহারুল ইসলাম, দিলরুবা খান প্রমুখ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/টিএ/এএইচকে
নিউজবাংলাদেশ.কম








