News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৫৬, ২০ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৫:৪৩, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

মেয়াদ শেষের আগেই সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

মেয়াদ শেষের আগেই সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

ঢাকা: মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এএইচএম হাবিবুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রোববার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র নিউজবাংলাদেশকে নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অধ্যাপক এএইচএম হাবিবুর রহমানের পদত্যাগপত্রটি সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গতকালই অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে হাবিবুর রহমানের আগামী ২৬ ডিসেম্বর মেয়াদপূর্তি হওয়ার কথা ছিল।  

সোনালী ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনার পর অধ্যাপক হাবিবুর রহমান সোনালী ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ওই কেলেঙ্কারির ঘটনার পর ব্যাংকটিকে ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে না পারায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। পাশাপাশি, ব্যাংক পরিচালনায় বাইরের নানা চাপ এড়াতে এবং নতুন কোনো অনিয়মের দায় নিতে রাজি না থাকায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, বিভিন্ন চাপের মুখে কয়েকটি গ্রুপকে বড় অঙ্কের ঋণ দিতে হয়েছে, যার আদায় নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। নতুন করে একটি গ্রুপ আরো হাজার কোটি টাকার ঋণ আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগ থেকে হাবিবুর রহমানের পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এটি গৃহীত হবে কিনা তার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

প্রসঙ্গত, হল-মার্ক কেলেঙ্কারির পরও তত্কালীন চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলামকে পুনরায় নিয়োগ দেয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে,  ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সাবেক ডিন ও বর্তমানে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অনুষদের ডিন।

সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৫তে উত্থাপিত তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৪ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৯৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১৩ সালে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণ ছিল ৩৪ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে এটা কমে ৩৩ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা হয়েছে। শ্রেণীকৃত ঋণ কিছুটা কমে ৮ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা হয়েছে। তবে ২০১৩ তুলনায় ২০১৪তে শ্রেণীকৃত ঋণ আদায় কমেছে ৬৭০ কোটি টাকা। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি রেমিট্যান্স দুটোই আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়